ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএনের কনস্টেবল আটক কক্সবাজারে জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের উদ্যোগে মে দিবস পালিত ‘আঁকো তোমার শহর’—শিল্পচর্চায় নতুন ভাবনা অমরণি ফুলের কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম অপহরণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র তুহিন কারাগারে এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক ট্রাকের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন কক্সবাজারে নানান আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত ১৩ মাস পর টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু: মিয়ানমার থেকে এলো কাঠ বোঝাই বোট কক্সবাজারে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: রাষ্ট্রপতি দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম

কুতুবদিয়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশার (টমটম) গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২টি টমটম গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অন্তত ২২ জন অটোরিকশা চালক।

শুক্রবার (১ মে) ভোর রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং দরবার সড়কের মাথায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

গ্যারেজ মালিক নেজাম উদ্দিন প্রকাশ ধলু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ২২টি টমটম চার্জিংয়ে রেখে গ্যারেজেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি রিকশায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন।

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এর আগেই ২২টি টমটম গাড়ি, একটি বড় জেনারেটর এবং একটি আইসক্রিম ভ্যান পুড়ে যায়।

কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার সোহেল আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবরটি স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ দিলে সেখান থেকে তারা অবহিত হন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। হায়দর আলী মিয়াজি পাড়ার চালক হাসান শরীফ জানান, তার টমটমের বক্সে রাখা ২৮ হাজার টাকা ও জমির দলিল পুড়ে গেছে। “সবকিছু শেষ হয়ে গেল, এখন আমরা নিঃস্ব,” বলেন তিনি।

চালক কামাল ও মো. ছলিম বলেন, কিস্তির টাকায় গাড়ি কিনে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্তত ৪ থেকে ৫ জন চালকের গাড়ির ভেতরে রাখা নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগুনে ধ্বংস হয়েছে। যা তাদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় সরাসরি কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগাযোগ না করে ৯৯৯ এ ফোন করায় তথ্যটি একাধিক ধাপ ঘুরে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। তাদের দাবি, এ বিলম্বের কারণেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ৬-৭ মিনিটের পথ বলেও তারা উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, খবর পেয়ে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি সম্বলহীন চালকদের জন্য বড় ক্ষতি। তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা জরুরি।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সঠিক যোগাযোগ ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

কুতুবদিয়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশার (টমটম) গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২টি টমটম গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অন্তত ২২ জন অটোরিকশা চালক।

শুক্রবার (১ মে) ভোর রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং দরবার সড়কের মাথায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

গ্যারেজ মালিক নেজাম উদ্দিন প্রকাশ ধলু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ২২টি টমটম চার্জিংয়ে রেখে গ্যারেজেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি রিকশায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন।

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এর আগেই ২২টি টমটম গাড়ি, একটি বড় জেনারেটর এবং একটি আইসক্রিম ভ্যান পুড়ে যায়।

কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার সোহেল আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবরটি স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ দিলে সেখান থেকে তারা অবহিত হন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। হায়দর আলী মিয়াজি পাড়ার চালক হাসান শরীফ জানান, তার টমটমের বক্সে রাখা ২৮ হাজার টাকা ও জমির দলিল পুড়ে গেছে। “সবকিছু শেষ হয়ে গেল, এখন আমরা নিঃস্ব,” বলেন তিনি।

চালক কামাল ও মো. ছলিম বলেন, কিস্তির টাকায় গাড়ি কিনে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্তত ৪ থেকে ৫ জন চালকের গাড়ির ভেতরে রাখা নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগুনে ধ্বংস হয়েছে। যা তাদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় সরাসরি কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগাযোগ না করে ৯৯৯ এ ফোন করায় তথ্যটি একাধিক ধাপ ঘুরে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। তাদের দাবি, এ বিলম্বের কারণেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ৬-৭ মিনিটের পথ বলেও তারা উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, খবর পেয়ে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি সম্বলহীন চালকদের জন্য বড় ক্ষতি। তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা জরুরি।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সঠিক যোগাযোগ ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।