ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার পেকুয়ার শিলখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ মুরগির ওজনে কারসাজি : ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বলে বিক্রি, অন্য দোকানে ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জসিম উদ্দিন হেলাল কে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : দোয়া কামনা পরিবারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসারের নিয়োগকৃত পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন কমিটি বাতিল বাঁকখালী নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা, দখলদার উচ্ছেদে হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ রায় চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রান্নাঘর রেস্টুরেন্টসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি শাহীন,সহ-সভাপতি সেলিম, সম্পাদক ফারুক কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইমতিয়াজের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার

পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ

জলীয় কিছু জমে শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠাকে বলে ইডেমা। শরীরের অনেক অংশেই এমন পানি জমতে পারে, তবে মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের দিকে পানি জমে বেশি।

প্রথমেই লক্ষ্য করার বিষয় হলো দুই পা ফোলা, নাকি এক পা।

দুই পা–ই ফুললে

দুই পা একসঙ্গে ফুলে গেলে নিচের কারণগুলো বিবেচনায় নিতে হবে-

কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এমলডিপিন অথবা অ্যাসপিরিন, আইব্রপ্রফেন–জাতীয় পেইন কিলার অথবা স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ, জন্মনিরোধক পিলের কারণে ফুলতে পারে পা। দরকার হলে ওষুধ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের তৃতীয় ট্রাইমস্টার মানে শেষ তিন মাসে ইডেমা বা পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

পায়ের শিরার একমুখী ভালভগুলি দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত জমে পায়ের ফোলাভাবের সৃষ্টি হয়। সাধারণত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে এটা বেশি দৃশ্যমান হয়। আর যাঁদের ওজন বাড়তি, তাঁরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।

‎তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পা ফোলা বা এডিমা‎ ‎ গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের‎ একটি লক্ষণ। যেমন হার্ট ফেইলিউর, কিডনি ফেইলিউর, লিভার ফেইলিউর, থাইরয়েড হরমোনের অভাব, ‎‎অপুষ্টি‎‎। এদের প্রতিটিরই নিজস্ব অনুষঙ্গ থাকবে। যেমন শ্বাসকষ্ট, মুখ ফোলা, পেট ফোলা, জন্ডিস, প্রস্রাব কম হওয়া বা না হওয়া, গলার স্বরে পরিবর্তন ইত্যাদি।

এক পা ফুললে

শরীরের নিম্ন ভাগ থেকে রক্ত ফেরত নেওয়ার কাজ করে যেসব শিরা, কোনো কারণে এসবের কোনোটিতে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে তাকে বলে ‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস’ (ডিভিটি)। ধমনির মাধ্যমে রক্ত পায়ে আসছে কিন্তু ফেরত যেতে পারছে না, তাই পা ফুলে গেছে। জমাট রক্তপিণ্ড হার্ট কিংবা ফুসফুসে গিয়ে তৈরি করতে পারে মারাত্মক সমস্যা। হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে এক পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া ডিভিটির মূল লক্ষণ। এর ঝুঁকি বাড়ে যদি কোনো রোগী দীর্ঘদিন বিছানাবন্দী থাকেন, ক্যানসারে ভোগেন, পায়ে কোনো আঘাত পান, উড়োজাহাজ, ট্রেন বা বাসে লম্বা পথ ভ্রমণ করেন।
এ ছাড়া লসিকা নালিতে ব্লক (লিম্ফ ইডেমা), প্রদাহ বা জীবাণুর সংক্রমণে সেলুলাইটিস হওয়ার কারণে পা ফুলতে পারে। অনেক সময় হাড়ক্ষয়জনিত হাঁটু ব্যথাও পা ফোলার জন্য দায়ী।

করণীয়

কিছু নিয়ম মেনে চললে পা ফোলা সাময়িক কমে যেতে পারে। যেমন:

লবণ এবং লবণ–জাতীয় খাবার কম খাওয়া।

নিয়মিত ব্যায়াম।

ঘুমের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পাকে একটু উঁচু করে রাখা।

হঠাৎ পা ফুলে যাওয়া যেমন সাময়িক কারণে হতে পারে, আবার গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণও হতে পারে। এ জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং প্রয়োজন মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক কারণ জেনে নেওয়া ভালো।

সূত্র: প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ

আপডেট সময় : ০২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জলীয় কিছু জমে শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠাকে বলে ইডেমা। শরীরের অনেক অংশেই এমন পানি জমতে পারে, তবে মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের দিকে পানি জমে বেশি।

প্রথমেই লক্ষ্য করার বিষয় হলো দুই পা ফোলা, নাকি এক পা।

দুই পা–ই ফুললে

দুই পা একসঙ্গে ফুলে গেলে নিচের কারণগুলো বিবেচনায় নিতে হবে-

কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এমলডিপিন অথবা অ্যাসপিরিন, আইব্রপ্রফেন–জাতীয় পেইন কিলার অথবা স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ, জন্মনিরোধক পিলের কারণে ফুলতে পারে পা। দরকার হলে ওষুধ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের তৃতীয় ট্রাইমস্টার মানে শেষ তিন মাসে ইডেমা বা পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

পায়ের শিরার একমুখী ভালভগুলি দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত জমে পায়ের ফোলাভাবের সৃষ্টি হয়। সাধারণত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে এটা বেশি দৃশ্যমান হয়। আর যাঁদের ওজন বাড়তি, তাঁরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।

‎তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পা ফোলা বা এডিমা‎ ‎ গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের‎ একটি লক্ষণ। যেমন হার্ট ফেইলিউর, কিডনি ফেইলিউর, লিভার ফেইলিউর, থাইরয়েড হরমোনের অভাব, ‎‎অপুষ্টি‎‎। এদের প্রতিটিরই নিজস্ব অনুষঙ্গ থাকবে। যেমন শ্বাসকষ্ট, মুখ ফোলা, পেট ফোলা, জন্ডিস, প্রস্রাব কম হওয়া বা না হওয়া, গলার স্বরে পরিবর্তন ইত্যাদি।

এক পা ফুললে

শরীরের নিম্ন ভাগ থেকে রক্ত ফেরত নেওয়ার কাজ করে যেসব শিরা, কোনো কারণে এসবের কোনোটিতে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে তাকে বলে ‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস’ (ডিভিটি)। ধমনির মাধ্যমে রক্ত পায়ে আসছে কিন্তু ফেরত যেতে পারছে না, তাই পা ফুলে গেছে। জমাট রক্তপিণ্ড হার্ট কিংবা ফুসফুসে গিয়ে তৈরি করতে পারে মারাত্মক সমস্যা। হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে এক পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া ডিভিটির মূল লক্ষণ। এর ঝুঁকি বাড়ে যদি কোনো রোগী দীর্ঘদিন বিছানাবন্দী থাকেন, ক্যানসারে ভোগেন, পায়ে কোনো আঘাত পান, উড়োজাহাজ, ট্রেন বা বাসে লম্বা পথ ভ্রমণ করেন।
এ ছাড়া লসিকা নালিতে ব্লক (লিম্ফ ইডেমা), প্রদাহ বা জীবাণুর সংক্রমণে সেলুলাইটিস হওয়ার কারণে পা ফুলতে পারে। অনেক সময় হাড়ক্ষয়জনিত হাঁটু ব্যথাও পা ফোলার জন্য দায়ী।

করণীয়

কিছু নিয়ম মেনে চললে পা ফোলা সাময়িক কমে যেতে পারে। যেমন:

লবণ এবং লবণ–জাতীয় খাবার কম খাওয়া।

নিয়মিত ব্যায়াম।

ঘুমের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পাকে একটু উঁচু করে রাখা।

হঠাৎ পা ফুলে যাওয়া যেমন সাময়িক কারণে হতে পারে, আবার গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণও হতে পারে। এ জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং প্রয়োজন মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক কারণ জেনে নেওয়া ভালো।

সূত্র: প্রথম আলো