কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় সিএনজি চালক ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার আগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন। এতে এলাকায় নতুন করে অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মামলার তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরুনতলী এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ মিয়াকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পালংখালী এলাকার জয়নাল নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চাকমারকুল এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং মরদেহটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকসানা জাহান বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয় (এফআইআর নং–৩১, জিআর নং–৯০৮)।
তবে ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পালংখালী এলাকায় ইয়াবা ছিনতাইয়ের একটি ঘটনায়ও এ মামলার কয়েকজন আসামির নাম এসেছে।
ওই ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে নিশানের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া হান্নান মিয়া ও তাঁর দুই ছেলে জাহেদ হোসেন (২৫) এবং আখতার হোসেন (২৮)ও বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত ছৈয়দ মিয়ার বাবা আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
মামলার ৬ নম্বর আসামি আখতার হোসেন পালংখালীর গয়ালমারা এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার হাসপাতালে কর্মরত। তবে সম্প্রতি একটি ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনাটি অনেকটাই ক্লু–লেস ছিল। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















