সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লাইভে টুরিস্ট পুলিশ ককক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন ‘লায়লা পরী’ নামে এক তরুণী।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি (Laila Pori) তে লাইভে এসে ঐ তরুণী অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী রকিবুল ইসলাম সৈকত জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে আপেল মাহমুদের কাছে তাকে পাঠাতেন।
প্রায় পঁচিশ মিনিটের লাইভে তিনি বলেন, ‘ আমার সাবেক স্বামী আমাকে বাধ্য করেছিলো আপেল মাহমুদের কাছে যেতে। আমি সত্যটা তুলে ধরেছি সে খারাপ প্রকৃতির লোক, আমাকে হোটেল রুমে নিয়ে গিয়ে সারারাত নির্যাতন করত। কিছু একটা মিশিয়ে খাইয়ে দিতো আমি বুঝতাম না।’
লায়লা পরী দাবী করেন, ‘ আমার মত অনেক মেয়ে টুরিস্ট পুলিশের আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত। কেউ ভয়ে বলছে না অথবা সংসারের কারণে বলছে না আমিই একমাত্র সাহস করেছি এবং আমার সাথে যে অন্যায় হয়েছে তা তুলে ধরেছি।’
লাইভের একপর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলতে থাকেন, ‘ আমি আপেল মাহমুদের বিচার চাই, আর আমার স্বামী রাকিবুল ইসলাম সৈকতের বিচারও আমি চাই তার কারণে আমার এই পরিণতি হয়েছে। আমি যখন বললাম, মানুষ বলেছে আপেল মাহমুদ এমন করতে পারেনা তাহলে আমার সাথে সে যা করলো সেগুলো কি অপরাধ নয়?’
তিনি লাইভ দেখতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি, আপনাদের কাছেও জানতে চাই এই বিচার টা কেমন হওয়া উচিত। আমি যদি এভাবে ছেড়ে দিই তাহলে পরবর্তীতে আরেকটা মেয়ের লাইফ কেমন হবে? আমার জীবন তো শেষ।’
জানা গেছে, লায়লা পরীর আসল নাম লায়লা বেগম। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্মাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গণীর মেয়ে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে আপেল মাহমুদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার সামাজিক ও পেশাগত অবস্থানকে হেয় করতে সেই নারীটি একটি মহলের যোগসাজশে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে তাকে উকিল নোটিশ দিয়েছি সে দীর্ঘদিন ধরে এই তৎপরতায় লিপ্ত।’
অন্যদিকে তরুণীর সাবেক স্বামী রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, একই দিন (৬ মার্চ) আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অর্থ কেলেঙ্কারিসহ অসংখ্য অভিযোগ তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















