উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে… নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিক নির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “রাজনীতিবিদগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও একজন রাজনীতিকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানীগুণীজন দিক নির্দেশনার ভূমিকা পালন করে থাকেন। একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে কৃতি মানুষদের সংখ্যা যত বেশি বাড়তে থাকবে, সমৃদ্ধি এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হতে থাকবে।
“সুতরাং রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে। এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমবারের মতন একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি শুধু একটি পদকই নয়, বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে ’৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা ও চর্চায় নিজেদেরকে এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপমর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।
“শুরুতেই তিনটি বিষয় পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার একুশে পদকের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভবত কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন।”
সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, “জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্য চর্চার ধারা আরো শানিত এবং বিকশিত হোক—এই প্রত্যাশা করছি আমরা সকলে।
“শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প, সাহিত্যের চর্চাকে আরো বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।”
জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিশীল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয় স্মারক। বলা যায়, আমাদের চেতনার প্রাণ প্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি।
“বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্ব সাহিত্যের জগতে আলো ছড়াবে—এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করছি।”
একুশে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষা মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং একই সাথে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস, আমাদের শিকড় সন্ধানী মাস।
“আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা সংগ্রামীদের। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহীদ মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন। আজ যারা একুশে পদকে ভূষিত হলেন, আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান।
বক্তব্যের আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ গুণী ও এক ব্যান্ডকে একুশে পদক দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র: বিডিনিউজ
টিটিএন ডেস্ক: 


















