ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন  সড়ক ভাড়া দিলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু অবশেষে গ্রেফতার হলো নিহত তাজমিনের প্রেমিক রাজু উখিয়ার কোটবাজার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জসিম গ্রেপ্তার আরব আমিরাত থেকে ৯৬ লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে এলো চকরিয়ার নোমান, খুঁজছে পুলিশ কক্সবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘সম্পর্ক নেই’ রাজুর পেকুয়ায় চিংড়িঘেরে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ৩ ৫০ হাজার টাকার জন্য ৪ বছরের ওমাইরকে অপহরণ করে হত্যা এমপি কাজলের সহধর্মিণী শিরিন রহমানের সুস্থতা কামনায় রামুতে বিএনপির দোয়া মাহফিল

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট