ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন আইনজীবী ইয়াছির আরাফাত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে সাগরের মাছ পাচার তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ? ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই চার্জশিট: আইনমন্ত্রী স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলার প্রথম ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সীমান্তে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ, পিছু হটতে বাধ্য হলো ভারতীয় বাহিনী ফোর্টিফাই রাইটসের বিবৃতি – আরসা প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দাবি কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত কুকুরের নৈপুণ্যে টায়ারের ভেতর মিলল ইয়াবা

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট