ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় টেকনাফে যুবক গুলিবিদ্ধ টেকনাফে কিশোর অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি কক্সবাজার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হ্নীলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর/ অবশেষে জেটি ও টার্মিনালসহ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সৈকত খেলাঘর আসর নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিললো গর্তে কক্সবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল:গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে জনগণ নোট অব ডিসেন্ট দেবে খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝিনুকমালার নানান আয়োজন  পেকুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট