বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিদেশি কোচ, ট্রেনার, কিউরেটর এবং নারী দলের সদস্যদের আবাসন খরচ নিয়ে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। গুলশান-বনানী ও রাজশাহীর মহানন্দা আবাসিক এলাকার মতো অভিজাত এলাকায় বিসিবি অন্তত ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রেখেছে, যার পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব বাসার অনেকগুলোই বছরের বেশির ভাগ সময় ফাঁকা পড়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে জাতীয় দলের কোচ শন টেইট দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করছেন। অথচ গুলশানের ৪৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাড়িতে তাঁর নামে বরাদ্দ নেওয়া ফ্ল্যাটটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
এই ফাঁকা ফ্ল্যাটগুলোর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন বিসিবির লজিস্টিকস বিভাগের নির্বাহী জিহাদুর রহমান সোহান। গত বছরের ১ জুলাই থেকে বিসিবির সব ভাড়া বাসার তত্ত্বাবধানে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিবির অর্থে ভাড়া নেওয়া কিন্তু অব্যবহৃত ফ্ল্যাটগুলো জিহাদুর রহমান সোহানের ব্যক্তিগত আমোদ-ফুর্তির জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি সেখানে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে নিয়মিত সময় কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফ্ল্যাট বিদেশি নাগরিকদের কাছে দৈনিক চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির নীতিমালার পরিপন্থী।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট বাসাগুলোর গৃহপরিচারিকাদের কাছ থেকে মাসিক বেতন থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একজন গৃহপরিচারিকার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশনের পাশাপাশি সন্ধ্যার পরে বাসায় ডাকার মতো অস্বস্তিকর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
রাজশাহীর মহানন্দা আবাসিক এলাকার একটি বাসা নিয়ে স্পষ্ট আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। নারী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গামিনী ডি সিলভার জন্য নেওয়া ওই বাসাটির প্রকৃত মাসিক ভাড়া ২৩ হাজার টাকা হলেও বিসিবি থেকে প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হতো। এই অভিযোগ করেছেন খোদ বাসাটির ম্যানেজার সদর খান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিতভাবে দেখানো হতো।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জিহাদুর রহমান সোহানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য না করে প্রতিবারই ফোন কেটে দেন।
এই ঘটনা বিসিবির অভ্যন্তরীণ তদারকি, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ক্রিকেট উন্নয়নের নামে বরাদ্দ অর্থের এমন ব্যবহার দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: স্টার প্লে
সায়ন্তন ভট্টাচার্য : 






















