ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে হচ্ছেন বিসিবির কক্সবাজারের কাউন্সিলর? র‌্যাবের অভিযান: টেকনাফে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ ২ জন ও ঈদগাঁওয়ে অস্ত্রসহ ২ জন গ্রেফতার কক্সবাজারে “মাদক নিযন্ত্রণ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক সেমিনার মসজিদের কক্ষে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উখিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নিহত প্রায় ৯০ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চ্যালেঞ্জ শনাক্তে কক্সবাজারে যাচ্ছে ইসি মহেশখালীতে ড্রেন নির্মাণকাজে ডাম্পারের ধাক্কা, শ্রমিক নিহত টেকনাফে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মাঝি আটক কক্সবাজারে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে গর্জনিয়ায় সোহেলের বসতঘর থেকে মিললো ১ লাখ পিস ইয়াবা : এলাকায় চাঞ্চল্য

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কে হচ্ছেন বিসিবির কক্সবাজারের কাউন্সিলর?

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।