ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।