ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পরদেশে ৯ বছর ধরে পালন রোহিঙ্গাদের

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

এসময় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর আয়োজনে মিয়ানমারের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্যাম্প-১ ডব্লিউর সমাবেশে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে  আলোচনা করা হয়।

বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’

প্রত্যাবাসন কবে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট সম্পর্কে অবগত থাকলেও বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,
প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমরা যেভাবেই হোক দেশে ফিরতে চাই।’

অন্যদিকে ক্যাম্প-৯য়ে আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান  দিল মোহাম্মদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলে।

২০১৭ সালের গণহত্যা-পরবর্তী বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পড়বে।