ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,রামুতে দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবারের বদলে হবে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার জেলা যুবদলের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বাঁশের সাঁকোই হলো মৃত্যুফাঁদ, রামুতে প্রাণ গেল যুবকের পুলিশের ‘বিশেষ’ অভিযান: আড়াই মাসে গ্রেপ্তার ৩৩ হাজার, বেশিরভাগই মাদক মামলায় ‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, শিশুর মতো যত্ন নিতে হবে’ ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল প্রতি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: প্রধানমন্ত্রী ‘মেসিকে আমরা ঘুম পাড়িয়ে দেব’ বলছে ইংল্যান্ড পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় গাফিলতির সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারসহ ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা জেলার ৭১ টি ইউনিয়ের মধ্যে ৬৯ টি ক্ষতিগ্রস্ত : মৃতের সংখ্যা ৩০ দূর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট

অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন সেই চাকমা যুবক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত এক চাকমা যুবক আজ সকালে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন।

আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ১০ টায় তিনি কৌশলে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস।

পালিয়ে আসা সংকুচিং চাকমা (৩৫) বলেন, আমি পাহাড়ে কৃষিকাজ করার সময় একদল অস্ত্রধারী অপহরণকারীরা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন উপায়ে আমার থেকে মুক্তিপণ দাবি করে যাচ্ছিল। আমি বলছি আমি গরীব কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করি।আজ ভোরে সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি কৌশলে পালিয়ে আসি।

গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদার পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে কৃষিকাজের সময় ২০–৩০ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল ওই যুবককে অপহরণ করে। অপহৃত যুবকের নাম সংকুচিং (৩৫)।

এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া অপর এক ব্যক্তি, বৃদ্ধ এবাদুল্লাহ (৬০), আগেই পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংকুচিংকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকেও অপহরণের চেষ্টা করা হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে গুলি ছোড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই এ অপহরণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃত যুবক পালিয়ে আসায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৭৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যার্তদের পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,রামুতে দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন সেই চাকমা যুবক

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত এক চাকমা যুবক আজ সকালে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন।

আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ১০ টায় তিনি কৌশলে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস।

পালিয়ে আসা সংকুচিং চাকমা (৩৫) বলেন, আমি পাহাড়ে কৃষিকাজ করার সময় একদল অস্ত্রধারী অপহরণকারীরা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন উপায়ে আমার থেকে মুক্তিপণ দাবি করে যাচ্ছিল। আমি বলছি আমি গরীব কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করি।আজ ভোরে সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি কৌশলে পালিয়ে আসি।

গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদার পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে কৃষিকাজের সময় ২০–৩০ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল ওই যুবককে অপহরণ করে। অপহৃত যুবকের নাম সংকুচিং (৩৫)।

এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া অপর এক ব্যক্তি, বৃদ্ধ এবাদুল্লাহ (৬০), আগেই পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংকুচিংকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকেও অপহরণের চেষ্টা করা হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে গুলি ছোড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই এ অপহরণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃত যুবক পালিয়ে আসায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৭৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।