ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন

অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন সেই চাকমা যুবক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত এক চাকমা যুবক আজ সকালে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন।

আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ১০ টায় তিনি কৌশলে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস।

পালিয়ে আসা সংকুচিং চাকমা (৩৫) বলেন, আমি পাহাড়ে কৃষিকাজ করার সময় একদল অস্ত্রধারী অপহরণকারীরা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন উপায়ে আমার থেকে মুক্তিপণ দাবি করে যাচ্ছিল। আমি বলছি আমি গরীব কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করি।আজ ভোরে সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি কৌশলে পালিয়ে আসি।

গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদার পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে কৃষিকাজের সময় ২০–৩০ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল ওই যুবককে অপহরণ করে। অপহৃত যুবকের নাম সংকুচিং (৩৫)।

এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া অপর এক ব্যক্তি, বৃদ্ধ এবাদুল্লাহ (৬০), আগেই পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংকুচিংকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকেও অপহরণের চেষ্টা করা হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে গুলি ছোড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই এ অপহরণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃত যুবক পালিয়ে আসায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৭৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন সেই চাকমা যুবক

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত এক চাকমা যুবক আজ সকালে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন।

আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ১০ টায় তিনি কৌশলে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস।

পালিয়ে আসা সংকুচিং চাকমা (৩৫) বলেন, আমি পাহাড়ে কৃষিকাজ করার সময় একদল অস্ত্রধারী অপহরণকারীরা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন উপায়ে আমার থেকে মুক্তিপণ দাবি করে যাচ্ছিল। আমি বলছি আমি গরীব কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করি।আজ ভোরে সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি কৌশলে পালিয়ে আসি।

গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদার পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে কৃষিকাজের সময় ২০–৩০ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল ওই যুবককে অপহরণ করে। অপহৃত যুবকের নাম সংকুচিং (৩৫)।

এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া অপর এক ব্যক্তি, বৃদ্ধ এবাদুল্লাহ (৬০), আগেই পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংকুচিংকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকেও অপহরণের চেষ্টা করা হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে গুলি ছোড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই এ অপহরণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃত যুবক পালিয়ে আসায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৭৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।