ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কঠোর সেনাবাহিনী, মোড়ে মোড়ে তল্লাশি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ফলাফল না মানার হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন শাহজাহান ও আনোয়ারী ভোট দিলেন সেনাপ্রধান আজকের দিনটিকে আমরা জাতির জন্মদিন হিসেবে পালন করতে পারি : প্রধান উপদেষ্টা রামুতে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপি নেতা আটক ভোট প্রদান শেষে লুৎফুর রহমান কাজল- জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে সৌহার্দ্য, জামায়াত আমির-বিএনপি প্রার্থীর আলিঙ্গন ভোট দিলেন তারেক রহমান ‘ ইতিহাসের বাঁক বদলানো শুরু’ – সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার -০৩: সদর-রামু-ঈদগাঁওর ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি?

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি

This will close in 6 seconds

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।