ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।