ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

কক্সবাজার কলেজের গোল মোহাম্মদের ঘন্টার ধ্বনিতে তিন দশকের গল্প

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ঘণ্টা বাজতেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বুঝে নেয় নতুন ক্লাস শুরু হলো, বা হয়তো আজকের মতো ছুটি। সেই ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটা সময়। তিনি গোল মোহাম্মদ।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাজানো ঘণ্টার শব্দে একের পর এক ক্লাস শুরু হয়, শেষ হয়। পরীক্ষার সময়েও তার ঘণ্টাই জানান দেয় কখন শুরু, কখন শেষ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাই তিনি যেন কলেজ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গোল মোহাম্মদের গল্প শুরু ১৯৮৪ সালে। তখন তিনি বেসরকারিভাবে কলেজে যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজও থেমে নেই। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারিভাবে চাকরিতে যোগ দেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে।

তার পর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজের সময়সূচি, ছুটি, এমনকি পরীক্ষার পরিবেশও নির্ভর করেছে তার হাতের সেই ঘণ্টার ওপর।

গোল মোহাম্মদ বলেন, “আমি খুবই সুখী মানুষ। এই কলেজ, এই ঘণ্টা, এই শিক্ষার্থীরা সবই আমার জীবনের অংশ। সুখেই আছি আমি।”

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, গোল মোহাম্মদ শুধু একজন কর্মচারী নন, তিনি যেন কলেজের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন তার ঘণ্টার ধ্বনি শুনে দিন শুরু না হলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ অসম্পূর্ণ মনে হয়।

কলেজের আকাশে যখন বিকেলের সূর্য ডোবে, তখনও শেষবারের মতো ঘণ্টা বাজান গোল মোহাম্মদ। ঘণ্টার সেই মধুর ধ্বনির সঙ্গে শেষ হয় আরেকটি দিনের গল্প যার প্রতিটি অধ্যায়ে লেখা আছে এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নাম।