ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ কক্সবাজার-১ আসনে ঐতিহাসিক বিজয়: সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই বিএনপির জয় জয়কার.. ১৭ বছর পর সংসদে ফিরছেন লুৎফুর রহমান কাজল দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোট দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কঠোর সেনাবাহিনী, মোড়ে মোড়ে তল্লাশি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ফলাফল না মানার হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন শাহজাহান ও আনোয়ারী ভোট দিলেন সেনাপ্রধান আজকের দিনটিকে আমরা জাতির জন্মদিন হিসেবে পালন করতে পারি : প্রধান উপদেষ্টা রামুতে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপি নেতা আটক ভোট প্রদান শেষে লুৎফুর রহমান কাজল- জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।