ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
কক্সবাজার গোল্ডকাপ ফাইনালে তাণ্ডব

৯৫০ আসামির মধ্যে একজনকে আটক

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে সংঘটিত ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই মামলা হয়। যেখানে ৯৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিলো। তবে এ পর্যন্ত পুলিশ একমাত্র রবিউল নামে একজনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফ উদ্দিন।

তিনি জানান, “ফাইনাল ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় রবিউলকে আটক করা হয়েছে। তিনি টিকিট ছাড়া লোক প্রবেশ করানোসহ দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

১৪ সেপ্টেম্বর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বাদী হয়ে দুই ইজারাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়েত মুন্নার নাম উল্লেখ করে প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। একই দিন পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগে আরও ২৫০ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

ফাইনাল ম্যাচটি ১২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় রামু বনাম টেকনাফে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলা শুরুর আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুমার দিন হলেও সকাল ১১টার মধ্যেই গ্যালারিতে দর্শকদের ভিড় শুরু হয়। দুপুর ২টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রবেশ গেট ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে।

পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দর্শকরা মাঠের বাইরে থেকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর খেলাটি স্থগিত ঘোষণা করা হলে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা ফের স্টেডিয়ামে ঢুকে ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্স, চেয়ার, ভবনের কাঁচ ও গোলপোস্টও ভেঙে ফেলে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই ঘটনায় সদর উপজেলার ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর থানার ওসি তদন্ত ফারুক হোসেনসহ অন্তত ৫০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ সুপার সাইফ উদ্দিন বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি

কক্সবাজার গোল্ডকাপ ফাইনালে তাণ্ডব

৯৫০ আসামির মধ্যে একজনকে আটক

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে সংঘটিত ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই মামলা হয়। যেখানে ৯৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিলো। তবে এ পর্যন্ত পুলিশ একমাত্র রবিউল নামে একজনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফ উদ্দিন।

তিনি জানান, “ফাইনাল ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় রবিউলকে আটক করা হয়েছে। তিনি টিকিট ছাড়া লোক প্রবেশ করানোসহ দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

১৪ সেপ্টেম্বর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বাদী হয়ে দুই ইজারাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়েত মুন্নার নাম উল্লেখ করে প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। একই দিন পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগে আরও ২৫০ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

ফাইনাল ম্যাচটি ১২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় রামু বনাম টেকনাফে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলা শুরুর আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুমার দিন হলেও সকাল ১১টার মধ্যেই গ্যালারিতে দর্শকদের ভিড় শুরু হয়। দুপুর ২টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রবেশ গেট ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে।

পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দর্শকরা মাঠের বাইরে থেকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর খেলাটি স্থগিত ঘোষণা করা হলে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা ফের স্টেডিয়ামে ঢুকে ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্স, চেয়ার, ভবনের কাঁচ ও গোলপোস্টও ভেঙে ফেলে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই ঘটনায় সদর উপজেলার ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর থানার ওসি তদন্ত ফারুক হোসেনসহ অন্তত ৫০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ সুপার সাইফ উদ্দিন বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”