ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।