ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

১০ দিন, ছেলেটা আজও ফিরলো না…

প্রতিদিন জোয়ার আসে ভাটা হয়। উপকূলের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে অসংখ্য লোকের সাথে কথা বলছেন সাকিব হাসান। তার একমাত্র প্রিয় সন্তান অরিত্রের খোঁজ নেই আজ ১০ দিন।

গেলো সপ্তাহের মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়িতে গোসেলে নেমে ভেসে যায় অরিত্রসহ তিন বন্ধু। দুই বন্ধুর লাশ ভেসে এলেও এখনো সন্ধান নেই অরিত্রের।

অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান ১০ দিন ধরে সন্তানের খোঁজে আছেন কক্সবাজার। তিনি বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সাথে কথা বলছি, তারা বলছিলেন, সাগর যা নিয়ে যায় তা ফিরিয়ে দেয়। আমি সে আশা নিয়েই ঘুরছি। যেকোন অবস্থায় আমি আমার ছেলেটাকে চাই। ”

নিখোঁজ অরিত্রের মা-বাবাসহ চাচা-চাচিরাও এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে যেতে। সবার দৃষ্টি সমুদ্রের অথৈ জলে। স্বজনদের চোখের নোনা জল শুকিয়ে এসেছে তবুও যেনো অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

পৃথিবীতে অপেক্ষা বলে শব্দটা যে কতটা দীর্ঘ হতে পারে তা হয়তো অরিত্রের পরিবারের চেয়ে কেউ বুঝতে পারছে না।

অরিত্রের বাবা করুণ কন্ঠে বারংবার বলছিলেন, “ওকে(অরিত্র) পেলে বলবো- বাবা আজকে থেকে চিরকাল আমি তোমার সাথে থাকবো। আমাকে তুমি কিন্তু ফিরাই দিয়ো না আমার কাছে থাকো। তোমার হাতটা ধরবো, তোমার ইউনিভার্সিটির পাশে একটা বাসা নিয়ে সাথে থাকবো।”

পিতার এ আকুতি অরিত্রের কানে কী পোঁছাবে?

অরিত্র নিখোঁজের চতুর্থ দিন তার মা জেসমিন আক্তারের সাথে কথা হয়েছিলো আমাদের। তিনি বারবার বলছিলেন- “এই অথৈ সমুদ্রে তো আমি আমার ছেলেকে রেখে যেতে পারবো না। ছেলেকে রেখে বাসায় আমি একটা মুহুর্তও থাকতে পারবো না। যে কোন অবস্থাতে হোক আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

“আমার ছেলে রেখে যেতে পারব আমি? আমার ছেলেটা আমার বুকে ফিরে আসুক এটাই আমি চাই।”

অরিত্রের মায়ের বুক তাকে ডাকছে।

পরিবারের সবার কাছে অরিত্র ছিলো প্রিয়জন। তার চাচাতো বোনও চেয়ে আছে সাগরের দিকে। বলছিলেন- “ভাইয়ের শেষ চিহ্নটুকু হলেও নিয়ে যেতে চাই। আমরা আট ভাইবোন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হলেও একসাথে থাকতে চাই।”

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী মোহাম্মদ ওসমান টিটিএনকে জানান, দশম দিনের মতো তারা আজকেও অরিত্রে খোঁজে সন্ধান অভিযান চালিয়েছেন।

মোহাম্মদ ওসমান বলেন, “আমরা খুঁজছি। বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের বলে এসেছি। তারাও যেনো সন্ধান পেলে খবর দেন।”

গেলো সপ্তাহের সোমবার (৬জুলাই) পাঁচ বন্ধুসহ অরিত্র কক্সবাজার আসেন। ৭ জুলাই সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায় তিন বন্ধু। সেখান থেকে সাবাব ও আসিফ নামের অন্য দুজনের লাশ ভেসে আসলেই এখনো সন্ধান নেই অরিত্র হাসানের।

তারা প্রত্যেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে বেড়াতে আসেন কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

১০ দিন, ছেলেটা আজও ফিরলো না…

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

প্রতিদিন জোয়ার আসে ভাটা হয়। উপকূলের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে অসংখ্য লোকের সাথে কথা বলছেন সাকিব হাসান। তার একমাত্র প্রিয় সন্তান অরিত্রের খোঁজ নেই আজ ১০ দিন।

গেলো সপ্তাহের মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়িতে গোসেলে নেমে ভেসে যায় অরিত্রসহ তিন বন্ধু। দুই বন্ধুর লাশ ভেসে এলেও এখনো সন্ধান নেই অরিত্রের।

অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান ১০ দিন ধরে সন্তানের খোঁজে আছেন কক্সবাজার। তিনি বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সাথে কথা বলছি, তারা বলছিলেন, সাগর যা নিয়ে যায় তা ফিরিয়ে দেয়। আমি সে আশা নিয়েই ঘুরছি। যেকোন অবস্থায় আমি আমার ছেলেটাকে চাই। ”

নিখোঁজ অরিত্রের মা-বাবাসহ চাচা-চাচিরাও এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে যেতে। সবার দৃষ্টি সমুদ্রের অথৈ জলে। স্বজনদের চোখের নোনা জল শুকিয়ে এসেছে তবুও যেনো অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

পৃথিবীতে অপেক্ষা বলে শব্দটা যে কতটা দীর্ঘ হতে পারে তা হয়তো অরিত্রের পরিবারের চেয়ে কেউ বুঝতে পারছে না।

অরিত্রের বাবা করুণ কন্ঠে বারংবার বলছিলেন, “ওকে(অরিত্র) পেলে বলবো- বাবা আজকে থেকে চিরকাল আমি তোমার সাথে থাকবো। আমাকে তুমি কিন্তু ফিরাই দিয়ো না আমার কাছে থাকো। তোমার হাতটা ধরবো, তোমার ইউনিভার্সিটির পাশে একটা বাসা নিয়ে সাথে থাকবো।”

পিতার এ আকুতি অরিত্রের কানে কী পোঁছাবে?

অরিত্র নিখোঁজের চতুর্থ দিন তার মা জেসমিন আক্তারের সাথে কথা হয়েছিলো আমাদের। তিনি বারবার বলছিলেন- “এই অথৈ সমুদ্রে তো আমি আমার ছেলেকে রেখে যেতে পারবো না। ছেলেকে রেখে বাসায় আমি একটা মুহুর্তও থাকতে পারবো না। যে কোন অবস্থাতে হোক আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

“আমার ছেলে রেখে যেতে পারব আমি? আমার ছেলেটা আমার বুকে ফিরে আসুক এটাই আমি চাই।”

অরিত্রের মায়ের বুক তাকে ডাকছে।

পরিবারের সবার কাছে অরিত্র ছিলো প্রিয়জন। তার চাচাতো বোনও চেয়ে আছে সাগরের দিকে। বলছিলেন- “ভাইয়ের শেষ চিহ্নটুকু হলেও নিয়ে যেতে চাই। আমরা আট ভাইবোন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হলেও একসাথে থাকতে চাই।”

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী মোহাম্মদ ওসমান টিটিএনকে জানান, দশম দিনের মতো তারা আজকেও অরিত্রে খোঁজে সন্ধান অভিযান চালিয়েছেন।

মোহাম্মদ ওসমান বলেন, “আমরা খুঁজছি। বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের বলে এসেছি। তারাও যেনো সন্ধান পেলে খবর দেন।”

গেলো সপ্তাহের সোমবার (৬জুলাই) পাঁচ বন্ধুসহ অরিত্র কক্সবাজার আসেন। ৭ জুলাই সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায় তিন বন্ধু। সেখান থেকে সাবাব ও আসিফ নামের অন্য দুজনের লাশ ভেসে আসলেই এখনো সন্ধান নেই অরিত্র হাসানের।

তারা প্রত্যেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে বেড়াতে আসেন কক্সবাজার।