ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগুনে দগ্ধ আবু তাহেরসহ ৩ জনকে চমেক থেকে ঢাকায় প্রেরণ বিতর্কের মঞ্চে নিলামের উত্তাপ: সাউথইস্ট ব্যাংক দৃষ্টি ডিবেট প্রিমিয়ার লিগের অকশন কলাতলীর আগুনে দগ্ধদের দেখতে চমেক হাসপাতালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ রাজধানীতে আবার ভূমিকম্প অনুভূত ধর্ষণ-হত্যার এই ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে: শফিকুর রহমান জাতিসংঘের নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস সৌদিসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা পাকিস্তানের কলাতলীর আগুনে দগ্ধ আবু তাহেরের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার, ইসির নতুন প্রজ্ঞাপন টেকনাফে ট্রাকের ধাক্কায় শিশু নিহত: বিক্ষুদ্ধ স্থানীয়দের গাড়ী ভাংচুর এমপি কাজলকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন: কলাতলীর অগ্নিকান্ডে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নিলেন মরণোত্তর একুশে পদক পেলেন আইয়ুব বাচ্চু ৫ মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী কলাতলীর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আগুনে দগ্ধ আবু তাহেরসহ ৩ জনকে চমেক থেকে ঢাকায় প্রেরণ

This will close in 6 seconds

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।