স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জানিয়েছেন, অচিরেই জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর এ ঘোষণার পর জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সারাদেশে আবারও নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এও শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনার ঝড়।
দ্বীপবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও কয়েকজনকে ঘিরে বেশি আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
তন্মধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি নুরুল আলম আরমান।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমদ।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা ফিরোজ আহমদ খানের সুযোগ্য বড় পুত্র এডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ খান।
ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা আব্দুর রহমান।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসহাক মাহমুদ চৌধুরী।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন শাখার নেতা ও স্কুল শিক্ষক মাস্টার মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে কোনো চেয়ারম্যান টানা দুইবার নির্বাচিত হতে পারেননি। এর পেছনে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ বলেন, নেতৃত্বের অযোগ্যতা বা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এর কারণ। আবার কেউ মনে করেন, দ্বীপের সামাজিক কাঠামো—যেখানে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ—সেখানেই পরিবর্তনের প্রবণতা বেশি কাজ করে। ফলে একেক মেয়াদে একেকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়।
দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমাত্রিক আলোচনা। অনেকেই মনে করেন, আগামী নির্বাচনে “নতুন মুখ” ও তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আবার কারও মতে, সরকারদলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যায়।
দ্বীপের বাসিন্দা হুমাইরা আক্তার বলেন, “আমরা আর পুরান লোক চাই না, নতুনদের দেখতে চাই। পুরানরা মাঠে ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।”
অন্য এক বাসিন্দা আব্দুল আজিজের ভাষ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জন্য একজন দক্ষ, দূরদর্শী ও কর্মঠ নেতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, “মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ সব পদেই তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব আসুক। নতুনরা কী করতে পারে, আমরা তা দেখতে চাই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশিষ্টজন বলেন, “আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি দ্বীপের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, দ্বীপবাসীর জীবনমান উন্নত করবেন, আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নেবেন এবং দেশ-বিদেশে সেন্টমার্টিনের সুনাম বৃদ্ধি করবেন। একইসঙ্গে যার সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের সক্ষমতা থাকবে।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দ্বীপবাসীর আস্থা কার ওপর গিয়ে স্থির হয় এবং কে হন আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতীক।
টিটিএন ডেস্ক 



















