ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশের ভুলের খেসারতে কারাগারে কাটানো রাতে নির্ঘুম ছিল শিশু মাইরা পিএমখালীতে সীমানা বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা গর্জনিয়া ইউনিয়নের টোল-ট্যাক্স ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেলেন লুৎফুর রহমান রেন্ট বাইকের সাথে জড়িয়ে আছে কক্সবাজারের হাজারো মানুষ: তাদের পেটে লাথি দিবেন না- নয়ন মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শিক্ষক ছিলেন যিনি—অমর হয়ে থাকবেন শিক্ষিকা মাহরীন

২১ জুলাই, ২০২৫। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেই কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি মাহরীন চৌধুরী। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সমন্বয়ক, যিনি তার দায়িত্বের জায়গা থেকে সরেননি।

মাহরীন চৌধুরীর শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তিনি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান। মাহরীনের ছোট ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী বোনের মৃত্যুর খবর দিয়ে ফেসবুকে পোস্টে লেখেন-

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মাহরীন আপু (মাহরীন চৌধুরী) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আমার বড় বোন, যিনি আমাকে মায়ের মতো করে বড় করেছেন। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। ভবনে আগুন লাগার সময় তিনি সবার আগে নিজে বের হননি, বরং যতজন ছাত্রছাত্রীকে পারা যায়, বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁর শরীরের ১০০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। আজ রাতে আমার প্রিয় বোনের জন্য দোয়া করবেন দয়া করে। তিনি রেখে গেছেন তাঁর দুই ছেলে-আমার দুটি ভাগনে। আমরা এখনো হাসপাতালে থেকে তাঁর মরদেহ বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

মাহরীন চৌধুরী ম্যাডামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পোস্ট চোখে পড়ছে। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ‘বীর’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখছে।

আমরা উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় হতাহতের জন্য গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের বেশিরভাগই শিশু। কত শিশু, কত মানুষ যে হাসপাতালে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আসে তা ভাবলেই বুক ভারি হয়ে আসে।

এই গভীর শোকে আমরা স্তব্ধ। তবু, এই সময়ে মাহরীন ম্যাডামের মতো ‘বীর’ শিক্ষকদের কথা পড়ে, জানি, শুনি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় নত হই। আমাদের চোখ ভিজে আসে। আমরা সাহসে বুক বাঁধি।

স্কুলের বইয়ে পড়া হয়েছিল ফেলেসিয়া ডরোথিয়া হেমানসের লেখা ‘ক্যাসাবিয়াঙ্কা’ কবিতা:

The boy stood on the burning deck
Whence all but he had fled;
The flame that lit the battle’s wreck
Shone round him o’er the dead.

কবিতায় এক সাহসী ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটির বাবা তাকে জাহাজের একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলেন। জাহাজে আগুন লাগে। ছেলেটি পুড়ে যায়, মারা যায়, কিন্তু তার জায়গা থেকে সরে যায়নি।

‘ছেলেটি জ্বলন্ত জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ছিল, সরে গিয়েছিল সবাই—কেবল সে ছিল বাকি; সেই আগুনের আলো, ধ্বংসস্তূপের ওপরে পড়েছিল, চারদিকে মৃতদেহ।’

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ির মাহরীন ম্যাডাম আরও বড় কাজ করেছেন। তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের বাঁচানোর জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা তাঁকে আবারও শ্রদ্ধা জানাই।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের ভুলের খেসারতে কারাগারে কাটানো রাতে নির্ঘুম ছিল শিশু মাইরা

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শিক্ষক ছিলেন যিনি—অমর হয়ে থাকবেন শিক্ষিকা মাহরীন

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

২১ জুলাই, ২০২৫। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেই কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি মাহরীন চৌধুরী। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সমন্বয়ক, যিনি তার দায়িত্বের জায়গা থেকে সরেননি।

মাহরীন চৌধুরীর শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তিনি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান। মাহরীনের ছোট ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী বোনের মৃত্যুর খবর দিয়ে ফেসবুকে পোস্টে লেখেন-

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মাহরীন আপু (মাহরীন চৌধুরী) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আমার বড় বোন, যিনি আমাকে মায়ের মতো করে বড় করেছেন। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। ভবনে আগুন লাগার সময় তিনি সবার আগে নিজে বের হননি, বরং যতজন ছাত্রছাত্রীকে পারা যায়, বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁর শরীরের ১০০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। আজ রাতে আমার প্রিয় বোনের জন্য দোয়া করবেন দয়া করে। তিনি রেখে গেছেন তাঁর দুই ছেলে-আমার দুটি ভাগনে। আমরা এখনো হাসপাতালে থেকে তাঁর মরদেহ বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

মাহরীন চৌধুরী ম্যাডামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পোস্ট চোখে পড়ছে। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ‘বীর’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখছে।

আমরা উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় হতাহতের জন্য গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের বেশিরভাগই শিশু। কত শিশু, কত মানুষ যে হাসপাতালে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আসে তা ভাবলেই বুক ভারি হয়ে আসে।

এই গভীর শোকে আমরা স্তব্ধ। তবু, এই সময়ে মাহরীন ম্যাডামের মতো ‘বীর’ শিক্ষকদের কথা পড়ে, জানি, শুনি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় নত হই। আমাদের চোখ ভিজে আসে। আমরা সাহসে বুক বাঁধি।

স্কুলের বইয়ে পড়া হয়েছিল ফেলেসিয়া ডরোথিয়া হেমানসের লেখা ‘ক্যাসাবিয়াঙ্কা’ কবিতা:

The boy stood on the burning deck
Whence all but he had fled;
The flame that lit the battle’s wreck
Shone round him o’er the dead.

কবিতায় এক সাহসী ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটির বাবা তাকে জাহাজের একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলেন। জাহাজে আগুন লাগে। ছেলেটি পুড়ে যায়, মারা যায়, কিন্তু তার জায়গা থেকে সরে যায়নি।

‘ছেলেটি জ্বলন্ত জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ছিল, সরে গিয়েছিল সবাই—কেবল সে ছিল বাকি; সেই আগুনের আলো, ধ্বংসস্তূপের ওপরে পড়েছিল, চারদিকে মৃতদেহ।’

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ির মাহরীন ম্যাডাম আরও বড় কাজ করেছেন। তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের বাঁচানোর জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা তাঁকে আবারও শ্রদ্ধা জানাই।