ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ডাকাতি, বিকাশ কর্মীদের ৬০ লাখ টাকা লুট : গুলিবিদ্ধ ১ গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে শিক্ষার্থীদের হাতে চারা বিতরণ করলেন রামুর ইউএনও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কেন দেশজুড়ে সতর্কতা জারি, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলএনজি সরবরাহ কমেছে, সারা দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জুলাইয়ের লেন্স’ প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে গণঅভ্যুত্থানের ভয়াবহতা ব্রাজিলে তরুণ ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে? আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ শাহপরীরদ্বীপে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কবিরের, শনাক্ত করল পরিবার টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ এসআই দুলালের বিরুদ্ধে: অভিযোগ সঠিক নয় – ওসি

লোহাগাড়ায় নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি,ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে পানির উচ্চতা। পানি নামতে শুরু করায় দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এখন সামনে এসেছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। অনেক পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, কৃষিজমি, পুকুরের মাছ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই ) উপজেলার আমিরাবাদ, আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া, চুনতি, কলাউজানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে দেখা যায়। তবে অনেক এলাকায় এখনও কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার সময় ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পানি নামলেও ঘরে ফিরে তারা দেখতে পান নষ্ট হয়ে গেছে খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডলু নদীর তীরের বাসিন্দা আবদু রহিম বলেন, “পানি চলে গেলেও আমাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সংসার গোছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”

বড়হাতিয়ার ইউনিয়নের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, “ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কয়েকদিন খুব কষ্টে কাটিয়েছি। এখন পানি নামলেও ঘর কাদায় ভরে আছে। রান্না-বান্না করতেও সমস্যা হচ্ছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, “পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক পরিবারের বসতঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজকে এমপিসহ কয়েকটি এলাকায় পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

বাড়হাতিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান , বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। বহু পরিবারের বসতঘর,নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণসামগ্রী খুব একটা পৌঁছেনি।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দ্রুত পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পেলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ডাকাতি, বিকাশ কর্মীদের ৬০ লাখ টাকা লুট : গুলিবিদ্ধ ১

লোহাগাড়ায় নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি,ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ১১:২২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে পানির উচ্চতা। পানি নামতে শুরু করায় দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এখন সামনে এসেছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। অনেক পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, কৃষিজমি, পুকুরের মাছ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই ) উপজেলার আমিরাবাদ, আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া, চুনতি, কলাউজানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে দেখা যায়। তবে অনেক এলাকায় এখনও কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার সময় ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পানি নামলেও ঘরে ফিরে তারা দেখতে পান নষ্ট হয়ে গেছে খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডলু নদীর তীরের বাসিন্দা আবদু রহিম বলেন, “পানি চলে গেলেও আমাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সংসার গোছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”

বড়হাতিয়ার ইউনিয়নের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, “ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কয়েকদিন খুব কষ্টে কাটিয়েছি। এখন পানি নামলেও ঘর কাদায় ভরে আছে। রান্না-বান্না করতেও সমস্যা হচ্ছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, “পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক পরিবারের বসতঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজকে এমপিসহ কয়েকটি এলাকায় পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

বাড়হাতিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান , বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। বহু পরিবারের বসতঘর,নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণসামগ্রী খুব একটা পৌঁছেনি।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দ্রুত পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পেলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।