ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর ভদ্রপল্লিতে আর ভদ্রতা নেই কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার : যা যা থাকছে টেকনাফে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ, আটক ২ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি: গুলি এসে পড়লো পুলিশ ক্যাম্পে

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় বাংলাদেশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে এসে পড়েছে কয়েকটি গুলি। পরে পাল্টা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এপিবিএন সদস্যরা।

রোববার (৯ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পসহ কয়েকটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববার রাতে মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে ক্যাম্পে অবস্থানরত সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

নয়াপাড়া ক্যাম্পের সলিমুল্লাহ জানান, রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে। পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছোট বাচ্চারা ভয়ে কান্না করতে শুরু করে। আতঙ্কে এভাবে রাত কাটিয়েছি।

নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ক্যাম্পে ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে দিনে দুপুরে ও রাতে গোলাগুলি করে এলাকা ও ক্যাম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম গ্রুপ ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার জানান, নয়াপাড়া মৌচনী  রেজিস্ট্রার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রোববার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের সময় তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো পাহাড়ে অবস্থান করছে। তাই তাদেরকে সহজে আটক করা সম্ভব হয়না। তবুও এবিপিএন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।