ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলকে ‘আমরা ভয় পাই না’: হাকিমি প্রাণের দাবি পুরণ হলো কক্সবাজারবাসীর: মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নত করা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত কারিনা কায়সার বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের মূলহোতা নূরুল ইসলাম নাহিদ আটক পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – বিএনপি দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী মালুমঘাটে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের জন্য আমার নেতার বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যান আছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে পিএমখালীতে যান প্রধানমন্ত্রী, পাশে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন তারেক রহমান, দিনব্যাপী অংশ নেবেন ১১ কর্মসূচিতে  কক্সবাজারের পথে সপরিবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজা কংসনারায়ণের দূর্গা পূজা ও সমাজের ঐক্য

রাজশাহীর তাহেরপুরের প্রাচীন জনপদে শরৎকালের সোনালি আলো মাখা এক দুপুর। মাঠে বাজল ঢাক, শিউলির গন্ধে ভরে উঠল চারপাশ। ইতিহাসের পাতায় সেদিন লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়; বাংলার প্রথম রাজকীয় দুর্গাপূজা। আর সেই আয়োজনের পেছনে ছিলেন জমিদার রাজা কংসনারায়ণ।

তার আগে দুর্গাপূজা ছিল নিভৃত ঘরের আচার, পরিবারের ভক্তির সীমাবদ্ধতা। কিন্তু রাজা কংসনারায়ণ ভেবেছিলেন ভিন্ন কিছু। তিনি চেয়েছিলেন দেবীর পূজা হবে শুধু ভক্তির নয়, হবে এক মহা-সম্মিলন, যেখানে প্রজা আর জমিদার একই উৎসবে মিশে যাবে। ১৫৮০ সালের দিকে তার প্রাসাদের আঙিনায় প্রথম সেই মহোৎসব বসে। ঢাকের শব্দে প্রজাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ, মেলায় জমে ওঠে বেচাকেনা, আর সমাজ পায় এক নতুন ঐক্যের সেতুবন্ধন।

রাজা মনে করতেন, পূজা মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়; এটি মানুষকে কাছাকাছি আনার শক্তি। শরতের পূর্ণিমায় মা দুর্গার আগমন হলো প্রজাদের কাছে আনন্দ, আশ্রয় আর ভরসার প্রতীক। দেবী যেন কেবল দেবী নন, কন্যা, যিনি বছরে একবার বাপের বাড়ি আসেন। আর বিদায়ের দিন বিসর্জনে ভিজে ওঠে চোখ, শেখায় অনিত্যতার পাঠ, তবুও বুক ভরে থাকে আগামী বছরের স্বপ্নে।

আজও বাংলার দুর্গাপূজা সেই উত্তরাধিকার বয়ে চলেছে। শিউলি, কাশফুল, আর ঢাকের তালে যখন মা আসেন, তখনো মনে পড়ে সেই প্রাচীন তাহেরপুর। যেখানে রাজা কংসনারায়ণ প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন, এক পূজা, যা সমাজকে গাঁথবে ভালোবাসা আর ঐক্যের অটুট সুতায়।

চার শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবু আজও দুর্গাপূজা মানে শুধু ধর্ম নয়, মানে ভালোবাসার উৎসব, সমাজের বন্ধন আর মানুষের অনন্ত স্বপ্ন।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক , চিন্তক ও গবেষক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী

রাজা কংসনারায়ণের দূর্গা পূজা ও সমাজের ঐক্য

আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীর তাহেরপুরের প্রাচীন জনপদে শরৎকালের সোনালি আলো মাখা এক দুপুর। মাঠে বাজল ঢাক, শিউলির গন্ধে ভরে উঠল চারপাশ। ইতিহাসের পাতায় সেদিন লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়; বাংলার প্রথম রাজকীয় দুর্গাপূজা। আর সেই আয়োজনের পেছনে ছিলেন জমিদার রাজা কংসনারায়ণ।

তার আগে দুর্গাপূজা ছিল নিভৃত ঘরের আচার, পরিবারের ভক্তির সীমাবদ্ধতা। কিন্তু রাজা কংসনারায়ণ ভেবেছিলেন ভিন্ন কিছু। তিনি চেয়েছিলেন দেবীর পূজা হবে শুধু ভক্তির নয়, হবে এক মহা-সম্মিলন, যেখানে প্রজা আর জমিদার একই উৎসবে মিশে যাবে। ১৫৮০ সালের দিকে তার প্রাসাদের আঙিনায় প্রথম সেই মহোৎসব বসে। ঢাকের শব্দে প্রজাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ, মেলায় জমে ওঠে বেচাকেনা, আর সমাজ পায় এক নতুন ঐক্যের সেতুবন্ধন।

রাজা মনে করতেন, পূজা মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়; এটি মানুষকে কাছাকাছি আনার শক্তি। শরতের পূর্ণিমায় মা দুর্গার আগমন হলো প্রজাদের কাছে আনন্দ, আশ্রয় আর ভরসার প্রতীক। দেবী যেন কেবল দেবী নন, কন্যা, যিনি বছরে একবার বাপের বাড়ি আসেন। আর বিদায়ের দিন বিসর্জনে ভিজে ওঠে চোখ, শেখায় অনিত্যতার পাঠ, তবুও বুক ভরে থাকে আগামী বছরের স্বপ্নে।

আজও বাংলার দুর্গাপূজা সেই উত্তরাধিকার বয়ে চলেছে। শিউলি, কাশফুল, আর ঢাকের তালে যখন মা আসেন, তখনো মনে পড়ে সেই প্রাচীন তাহেরপুর। যেখানে রাজা কংসনারায়ণ প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন, এক পূজা, যা সমাজকে গাঁথবে ভালোবাসা আর ঐক্যের অটুট সুতায়।

চার শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবু আজও দুর্গাপূজা মানে শুধু ধর্ম নয়, মানে ভালোবাসার উৎসব, সমাজের বন্ধন আর মানুষের অনন্ত স্বপ্ন।

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক , চিন্তক ও গবেষক।