ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

“ম্যাম, আমরা আপনার অপসারণ চাই…”

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • 3860

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক হয়রানি, অবৈধ লাইসেন্স প্রদান ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে পৌরবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পৌরসভা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রশাসক আন্দোলনকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা কি চায়। এর উত্তরে সংগঠক এসএস সাগর জবাব দিয়েছিলেন, “ম্যাম আমরা আপনার অপসারণ চাই”।

যা সাগর নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আকারে দিয়েছেন। এরপর তা নিয়ে চলে আলোচনা।

টিটিএন সাগরের কাছে জানতে চায় তার এমন জবাব শোনার পর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ কি বলেছিলেন? সাগর জানান তার এমন উত্তরে প্রশাসক কিছুটা সময় চুপ হয়ে যান, তারপর বলেন, “আমার অপসারণের দাবি থাকলে সেটা ডিসি স্যার সিদ্ধান্ত নিবেন”।

এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয় প্রশাসকের কাছে। এসময় আন্দোলনকারীদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক সেবা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ আন্দোলনকারীদের বলেন, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভায় চলমান সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা সহায়ক কমিটি’ নামে একটি কমিটি এবিষয়ে কাজ করছে।

টমটমের লাইসেন্সের বিষয় যুক্তিতর্ক হয় আন্দোলনকারী ও প্রশাসকের মধ্যে। এসময় আন্দোলনের সংগঠক সাগর টমটম লাইসেন্স ইস্যুকে বিশৃঙ্খলার একটি বড় কারণ বলে সেখানে তুলে ধরেন।

প্রশ্ন করা হয়, “পৌর শহরে আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার টমটম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরপরও যানজট বেড়েই চলেছে। তাহলে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?”

এর উত্তরে পৌর প্রশাসক জানান, “বিভিন্ন কমিটি ও বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে শহরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনায় নতুন লাইসেন্স প্রদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে”।

এ প্রসঙ্গে সাগর জানান, “যদি পৌর শহর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হয়, তাহলে নিয়ম মেনে লাইসেন্স দেওয়া হোক। আর যদি না হয়, তাহলে শুধু স্থগিত নয়, এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।”

প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ জানান, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার পৌর প্রশাসককে অপসারণের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপিও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক এসময় আশ্বস্ত করেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের সংগঠক সাগর জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদের।

এরপর সবখানেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

রুবাইয়া আফরোজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নেই। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

“ম্যাম, আমরা আপনার অপসারণ চাই…”

আপডেট সময় : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক হয়রানি, অবৈধ লাইসেন্স প্রদান ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে পৌরবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পৌরসভা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রশাসক আন্দোলনকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা কি চায়। এর উত্তরে সংগঠক এসএস সাগর জবাব দিয়েছিলেন, “ম্যাম আমরা আপনার অপসারণ চাই”।

যা সাগর নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আকারে দিয়েছেন। এরপর তা নিয়ে চলে আলোচনা।

টিটিএন সাগরের কাছে জানতে চায় তার এমন জবাব শোনার পর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ কি বলেছিলেন? সাগর জানান তার এমন উত্তরে প্রশাসক কিছুটা সময় চুপ হয়ে যান, তারপর বলেন, “আমার অপসারণের দাবি থাকলে সেটা ডিসি স্যার সিদ্ধান্ত নিবেন”।

এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয় প্রশাসকের কাছে। এসময় আন্দোলনকারীদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভায় নাগরিক সেবা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ আন্দোলনকারীদের বলেন, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভায় চলমান সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা সহায়ক কমিটি’ নামে একটি কমিটি এবিষয়ে কাজ করছে।

টমটমের লাইসেন্সের বিষয় যুক্তিতর্ক হয় আন্দোলনকারী ও প্রশাসকের মধ্যে। এসময় আন্দোলনের সংগঠক সাগর টমটম লাইসেন্স ইস্যুকে বিশৃঙ্খলার একটি বড় কারণ বলে সেখানে তুলে ধরেন।

প্রশ্ন করা হয়, “পৌর শহরে আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার টমটম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরপরও যানজট বেড়েই চলেছে। তাহলে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?”

এর উত্তরে পৌর প্রশাসক জানান, “বিভিন্ন কমিটি ও বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে শহরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনায় নতুন লাইসেন্স প্রদান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে”।

এ প্রসঙ্গে সাগর জানান, “যদি পৌর শহর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হয়, তাহলে নিয়ম মেনে লাইসেন্স দেওয়া হোক। আর যদি না হয়, তাহলে শুধু স্থগিত নয়, এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।”

প্রশাসক রুবাইয়া আফরোজ জানান, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার পৌর প্রশাসককে অপসারণের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপিও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক এসময় আশ্বস্ত করেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের সংগঠক সাগর জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদের।

এরপর সবখানেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

রুবাইয়া আফরোজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নেই। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন।