ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আমাকে মিস করছেন?’ বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পুরোনো ছকে ফিরছে ব্রাজিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ ৬ দেশ কেমন ছিল বিশ্বকাপের প্রথম কিস্তি? মাতামুহুরীতে জামায়াতের জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শিক্ষক রেজাউল করিমের মায়ের অনুপস্থিতিতে ১২ বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওএমের গাড়ির ধাক্কা, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা টেকনাফে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, বিচার দাবিতে পরিবারের আহাজারি যুদ্ধ থেমেছে, ক্ষতের চিহ্ন কি মুছবে? বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারে শুরু হলো তিনদিনের জাতীয় ফল মেলা

মিয়ানমারের ওপার থেকে তীব্র গুলির শব্দ এলেও এপারে কেউ আহত নেই – বিজিবি

কক্সবাজারের উখিয়া ও বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের ওপার থেকে আসছে তীব্র গোলাগুলির শব্দ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১১ টার পর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী,থাইংখালী,বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিম পাড়া সহ সীমান্ত এলাকার অন্তত ৭ টি গ্রামে গুলির আওয়াজ শোনা গেছে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয়রা থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে রাত ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই আওয়াজের তীব্রতা ছিল বিকট।

থাইংখালীর স্থানীয় শিক্ষক কমরুদ্দিন মুকুল ঢাকাপোস্ট’কে বলেন, ‘ রাতে প্রচুর গুলি শব্দ শুনেছি। ঐপারে বড় কোনো সংর্ঘষ চলছে, এরকম শব্দ আগে এদিকে পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীরা আতংকে আছেন হয়তো আজ নির্ঘুম থাকতে হবে।’

স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,  সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাখাইন নিয়ন্ত্রণের দাবী করা আরকান আর্মির সাথে সংর্ঘষে জড়িয়েছে।

এদিকে এই সংর্ঘষের ঘটনায় এপারে আসা একটি গুলির আঘাতে আশ্রিত একজন রোহিঙ্গা আহত হওয়ার খবর দুটি ছবি সহ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, ‘মায়ানমারে তাদের অভ্যন্তরীণ গোলাগুলি, বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ নং অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে রোহিঙ্গা আহত এতে আমরা কি নিরাপদ ?’

এছাড়াও আরো অনেকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো সত্যতা মিলেনি, কিন্তু অতীতে এধরণের নজীর আছে।

বিজিবি বলছে,  সীমান্তের শুন্যরেখা থেকে দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং ১২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘটনাস্থল অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে গুলি আসার কোন সম্ভাবনা নেই।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর উখিয়া ব্যাটেলিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ আমরা সর্তক অবস্থানে থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বালুখালী বিওপির কাছাকাছি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থাকা আসা গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে, আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা আহত প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের এপারে কোন গুলি ছুটে আসার তথ্য আমরা পাইনি, সীমান্ত থেকে ক্যাম্প অনেক দূরে এবং সেটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরের ঘটনা। ‘

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরাকান আর্মি দাবি করেছিল, তারা রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে সামরিক জান্তা সেই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য সম্প্রতি নতুন করে অভিযান শুরু করেছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। কারণ সীমান্তের ওপারে প্রতিটি সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়া এসে পড়ে উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির জনবসতিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এখন আর শুধু জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই— বরং সেখানে জাতিগত ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সংঘাত জটিল আকার নিচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমাকে মিস করছেন?’

মিয়ানমারের ওপার থেকে তীব্র গুলির শব্দ এলেও এপারে কেউ আহত নেই – বিজিবি

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়া ও বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের ওপার থেকে আসছে তীব্র গোলাগুলির শব্দ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১১ টার পর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী,থাইংখালী,বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিম পাড়া সহ সীমান্ত এলাকার অন্তত ৭ টি গ্রামে গুলির আওয়াজ শোনা গেছে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয়রা থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে রাত ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই আওয়াজের তীব্রতা ছিল বিকট।

থাইংখালীর স্থানীয় শিক্ষক কমরুদ্দিন মুকুল ঢাকাপোস্ট’কে বলেন, ‘ রাতে প্রচুর গুলি শব্দ শুনেছি। ঐপারে বড় কোনো সংর্ঘষ চলছে, এরকম শব্দ আগে এদিকে পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীরা আতংকে আছেন হয়তো আজ নির্ঘুম থাকতে হবে।’

স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,  সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাখাইন নিয়ন্ত্রণের দাবী করা আরকান আর্মির সাথে সংর্ঘষে জড়িয়েছে।

এদিকে এই সংর্ঘষের ঘটনায় এপারে আসা একটি গুলির আঘাতে আশ্রিত একজন রোহিঙ্গা আহত হওয়ার খবর দুটি ছবি সহ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, ‘মায়ানমারে তাদের অভ্যন্তরীণ গোলাগুলি, বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ নং অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে রোহিঙ্গা আহত এতে আমরা কি নিরাপদ ?’

এছাড়াও আরো অনেকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো সত্যতা মিলেনি, কিন্তু অতীতে এধরণের নজীর আছে।

বিজিবি বলছে,  সীমান্তের শুন্যরেখা থেকে দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং ১২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘটনাস্থল অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে গুলি আসার কোন সম্ভাবনা নেই।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর উখিয়া ব্যাটেলিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ আমরা সর্তক অবস্থানে থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বালুখালী বিওপির কাছাকাছি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থাকা আসা গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে, আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা আহত প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের এপারে কোন গুলি ছুটে আসার তথ্য আমরা পাইনি, সীমান্ত থেকে ক্যাম্প অনেক দূরে এবং সেটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরের ঘটনা। ‘

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরাকান আর্মি দাবি করেছিল, তারা রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে সামরিক জান্তা সেই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য সম্প্রতি নতুন করে অভিযান শুরু করেছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। কারণ সীমান্তের ওপারে প্রতিটি সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়া এসে পড়ে উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির জনবসতিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এখন আর শুধু জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই— বরং সেখানে জাতিগত ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সংঘাত জটিল আকার নিচ্ছে।