বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সমুদ্র শহর কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (২১ জুন) ভোর থেকে শহরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও পর্যটকদের আনাগোনা কমেনি। বরং মেঘলা আকাশ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্রের ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবার নিয়ে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বর্ষার এই সময়েও পর্যটক উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, “এ মুহূর্তে কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে। প্রায় সব হোটেলেই পর্যটক রয়েছে। সাধারণত বর্ষাকালে পর্যটক কম থাকে, তবে এবার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকরা ছাতা হাতে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে হাঁটাহাঁটি করছেন। কেউ সমুদ্রের গর্জন আর মেঘলা আকাশের দৃশ্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন।
পর্যটকদের মধ্যে অনেকে বর্ষার এই ভিন্ন রূপ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে কক্সবাজারে এসেছেন বলে জানান।
পর্যটক শাহেদ বলেন, “সকালে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বাইক ভাড়া নিয়ে টেকনাফ পর্যন্ত গিয়েছিলাম। পথে বৃষ্টি শুরু হয়। এই আবহাওয়ায় মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে ওঠে।”
আরেক পর্যটক মুকলেছ বলেন,“বর্ষার সমুদ্র দেখতে এসেছি। অন্য সময় এই দৃশ্য দেখা যায় না, খুব ভালো লাগছে।”
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়মিত কাজ চলছে। তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে টুরিস্ট পুলিশের সরকারি মোবাইল নম্বর বিকল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
সি সেইফ লাইফগার্ড জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর বর্তমানে উত্তাল রয়েছে। পর্যটকদের সাগরে গোসলে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিপকারেন্ট ও গুপ্তখাল সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 























