ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কক্সবাজারে একদিনে চার মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ গুপ্ত লিখে ফেইসবুক পোস্ট,উখিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। মূলত আমদানি ও রফতানি পণ্যের মূল্য বা পরিমাণ কম–বেশি দেখিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।

সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। কর ফাঁকি দেওয়া, মুনাফা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া বা পুঁজি পাচারের উদ্দেশ্যে এই কৌশল ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)–এর মাধ্যমে এই অর্থ পাচার ঘটে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়।

জিএফআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাণিজ্য মূল্যের বড় ধরনের এই ব্যবধানের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশের এই অবৈধ অর্থ প্রবাহের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট ঘাটতির মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার কারসাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই ঝুঁকি কেবল আঞ্চলিক বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অর্থ পাচারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও ভারতের তুলনায় তা অনেক কম। একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে, শ্রীলঙ্কায় উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে। তবে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই অর্থ পাচারের প্রভাব সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে জিএফআই বলেছে, শুধু ২০২২ সালেই এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিগুলো এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেও ছোট-বড় প্রায় সব দেশেই এ ধরনের অনিয়ম বিদ্যমান।

প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং একটি গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা। গত এক দশকে এই প্রবণতা কমার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। মূলত আমদানি ও রফতানি পণ্যের মূল্য বা পরিমাণ কম–বেশি দেখিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।

সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। কর ফাঁকি দেওয়া, মুনাফা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া বা পুঁজি পাচারের উদ্দেশ্যে এই কৌশল ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)–এর মাধ্যমে এই অর্থ পাচার ঘটে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়।

জিএফআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাণিজ্য মূল্যের বড় ধরনের এই ব্যবধানের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশের এই অবৈধ অর্থ প্রবাহের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট ঘাটতির মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার কারসাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই ঝুঁকি কেবল আঞ্চলিক বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অর্থ পাচারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও ভারতের তুলনায় তা অনেক কম। একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে, শ্রীলঙ্কায় উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে। তবে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই অর্থ পাচারের প্রভাব সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে জিএফআই বলেছে, শুধু ২০২২ সালেই এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিগুলো এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেও ছোট-বড় প্রায় সব দেশেই এ ধরনের অনিয়ম বিদ্যমান।

প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং একটি গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা। গত এক দশকে এই প্রবণতা কমার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন