ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ মারামারির মামলায় সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দুই বছর কারাদন্ড জনপ্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষায় আরও পরিবর্তন আসছে পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক মামলার ফের তদন্ত চায় আসামিপক্ষ, রাষ্ট্রপক্ষ চায় দ্রুত বিচার বরকতময় খাবার সেহরি ​টেকনাফে ছাত্রদল নেতা আয়াছুল আলমের ইফতার বিতরণ টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি সামনের ইউপি নির্বাচনে সেন্টমার্টিনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী যারা! মায়ের পর বাবার জানাজায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দুই ভাই : নিজেদের নির্দোষ দাবি কক্সবাজারের ৪ পৌরসভায় প্রশাসকের আলোচনায় যারা কে হচ্ছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক? চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হলেন সরওয়ার আলম

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক মামলার ফের তদন্ত চায় আসামিপক্ষ, রাষ্ট্রপক্ষ চায় দ্রুত বিচার

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 36

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরেও। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ মামলার বিচার কাজও চলছে ধীরগতিতে। এরমধ্যেই এখন নতুন করে আবার তদন্তের কথা বলছেন আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চান আর যেন বিচার বিলম্বিত না হয়। প্রকৃত দোষীরা যেন আইনের আওতায় আসে।

নাম বদলের আগে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদরদপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটে। যেটির বর্ষপূর্তি হচ্ছে বুধবার। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার নিম্ম আদালতে রায় হয়। রায়ে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাই কোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। আপিল চলার সময় কারাগারে থাকা দুজন মারা যান। খালাস পান ১২ আসামি।

তবে এ ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনও বিচারাধীন। যেটির বিচার চলছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আলমগীরের আদালতে। সবশেষ গত ২৯ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিনে দুইজন সাক্ষ্য দেন।

বৃহস্পতিবার আবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী।

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে এ মামলার ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ৩২৮ জন জামিন পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১১৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে সংঘঠিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১৫ বছর পর চব্বিশের আন্দোলনে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশ বিদেশি চাঞ্চল্য তৈরি করা এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। যে কমিশন এজন্য ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও আওয়ামী লীগের অনেকের দায় দেখতে পায়। যোগ সংযোগ খুঁজে পায় ভারতেরও।

কমিশনের এ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের একজন পারভেজ হোসেন দাবি করেছেন, গোটা বিচারটা ছিল একটা ‘ভুল কর্ম’।

“এটা এজন্য বলছি, বিডিআরের সাবেক এক মহাপরিচালকের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান) নেতৃত্বে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি হল। সেই কমিশন তাদের রিপোর্টে বলেছে, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে বরং তারা বড় জোর সাক্ষী হতে পারত। ঘটনার যারা অভিযুক্ত, কুশীলব, অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী, এদের মামলার বাইরে রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিশন খুব পরিষ্কারভাবে বলেছে কে কী ভূমিকা রেখেছে আর কার কী ভূমিকা ছিল।

“আমাদের প্রত্যাশা ছিল মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের কাছে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনকে আইনানুগ কাঠামো দেওয়া। কিন্তু সেটা হয়নি।“

তিনি নতুন সরকারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিনা বিচারে এ মামলার আসামিদের দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা আর ১৭ বছর মামলার জালে আটকে থাকার কথা তুলে ধরে আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বিস্ফোরক মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলারও ফের তদন্ত চান।

অপরদিকে বিস্ফোরক মামলায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, তারা আসার পর ৭০ জনের সাক্ষ্য হয়েছে। সর্বমোট ৩০২ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। দ্রুত এ মামলা শেষ হওয়া দরকার।

“মামলাটা নিয়ে আমাদের মধ্যেও একটা তাগিদ বোধ আছে, কর্তৃপক্ষেরও কিছু চাওয়া আছে কীভাবে এটির দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। নানা কারণে মামলার বিচার একটু বিলম্বিত হয়েছে। সাক্ষীরা নিয়মিত এলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে।”

তিনি বলেন, “বিডিআর সদস্যরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নানা ধরনের অপব্যবহার হয়েছে। কোনো কারণ নাই অন্য কেউ এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মূলত তারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী। যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। সাক্ষ্যে বেশ কয়েকজন আসামির নাম এসেছে যারা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করেছে, গুদাম থেকে লুট করেছে।

“কোনো কোনো আসামির নিয়ন্ত্রণ থেকেও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এমন অপরাধীদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন। সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার মত একাধিক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত, বাকিটুকু চলমান।”

এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রসিকিউটর বলেন, “সাক্ষীদের জবানবন্দিতে নতুন করে অনেকের নাম এসেছে। যাদের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম এসেছে।

“আইনে আছে তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা। কর্তৃপক্ষ কীভাবে চায় আর আমরা কীভাবে অগ্রসর হব। এর বাইরে একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন কার্যক্রম করেছে। সেই স্বাধীন কমিশনের বিষয়ে আমরা সরাসরি সম্পৃক্ত না। আর ওইটা দ্বারা আমরা প্রভাবিতও না। ওইটা এখানে বিবেচ্য হবে না। যে তথ্য এসেছে আইনানুগভাবে যেটা অগ্রসর হওয়া যায় সেইটুকু বিবেচনায় রেখেছি।”

বোরহান বলেন, “আইনানুগভাবে বিষয়টা নিয়ে আমরা ভাবছি, করণীয় কী। পক্ষান্তরে এটাও চাই না যে, এটা করতে গিয়ে মামলার বিচার প্রলম্বিত হয়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে যেন বিচারটা প্রলম্বিত বা বিঘ্নিত না হয় এবং প্রকৃত দোষীদের যেন আইনের আওতায় আনা যায় এ বিষয় নিয়ে আমরা সচেতন।”

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় তৎকালীন

বিডিআরের কিছু উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান বিদ্রোহ শুরু করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেসময় সেখানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৭৪ জন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিডিআরের নাম, লোগো ও পতাকা পরিবর্তন করে বাহিনীর নাম রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে চকবাজার থানায় দুটি মামলা করা হয়। পরে সেগুলো নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে সিআইডি ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল।

চার বছর ৮ মাস পর ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হয়।

অপরদিকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে ২০১৩ সালের ১৩ মে বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা করা হয়। ২০১৪ সালের ২৫ অগাস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন পিলখানা হত্যা মামলার কারাবন্দি আসামি বিডিআরের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আব্দুর রহিমের ছেলে আইনজীবী আব্দুল আজিজ।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

This will close in 6 seconds

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক মামলার ফের তদন্ত চায় আসামিপক্ষ, রাষ্ট্রপক্ষ চায় দ্রুত বিচার

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরেও। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ মামলার বিচার কাজও চলছে ধীরগতিতে। এরমধ্যেই এখন নতুন করে আবার তদন্তের কথা বলছেন আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চান আর যেন বিচার বিলম্বিত না হয়। প্রকৃত দোষীরা যেন আইনের আওতায় আসে।

নাম বদলের আগে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদরদপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটে। যেটির বর্ষপূর্তি হচ্ছে বুধবার। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার নিম্ম আদালতে রায় হয়। রায়ে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাই কোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। আপিল চলার সময় কারাগারে থাকা দুজন মারা যান। খালাস পান ১২ আসামি।

তবে এ ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনও বিচারাধীন। যেটির বিচার চলছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আলমগীরের আদালতে। সবশেষ গত ২৯ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিনে দুইজন সাক্ষ্য দেন।

বৃহস্পতিবার আবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী।

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে এ মামলার ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ৩২৮ জন জামিন পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১১৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে সংঘঠিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১৫ বছর পর চব্বিশের আন্দোলনে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশ বিদেশি চাঞ্চল্য তৈরি করা এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। যে কমিশন এজন্য ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও আওয়ামী লীগের অনেকের দায় দেখতে পায়। যোগ সংযোগ খুঁজে পায় ভারতেরও।

কমিশনের এ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের একজন পারভেজ হোসেন দাবি করেছেন, গোটা বিচারটা ছিল একটা ‘ভুল কর্ম’।

“এটা এজন্য বলছি, বিডিআরের সাবেক এক মহাপরিচালকের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান) নেতৃত্বে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি হল। সেই কমিশন তাদের রিপোর্টে বলেছে, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে বরং তারা বড় জোর সাক্ষী হতে পারত। ঘটনার যারা অভিযুক্ত, কুশীলব, অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী, এদের মামলার বাইরে রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিশন খুব পরিষ্কারভাবে বলেছে কে কী ভূমিকা রেখেছে আর কার কী ভূমিকা ছিল।

“আমাদের প্রত্যাশা ছিল মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের কাছে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনকে আইনানুগ কাঠামো দেওয়া। কিন্তু সেটা হয়নি।“

তিনি নতুন সরকারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিনা বিচারে এ মামলার আসামিদের দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা আর ১৭ বছর মামলার জালে আটকে থাকার কথা তুলে ধরে আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বিস্ফোরক মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলারও ফের তদন্ত চান।

অপরদিকে বিস্ফোরক মামলায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, তারা আসার পর ৭০ জনের সাক্ষ্য হয়েছে। সর্বমোট ৩০২ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। দ্রুত এ মামলা শেষ হওয়া দরকার।

“মামলাটা নিয়ে আমাদের মধ্যেও একটা তাগিদ বোধ আছে, কর্তৃপক্ষেরও কিছু চাওয়া আছে কীভাবে এটির দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। নানা কারণে মামলার বিচার একটু বিলম্বিত হয়েছে। সাক্ষীরা নিয়মিত এলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে।”

তিনি বলেন, “বিডিআর সদস্যরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নানা ধরনের অপব্যবহার হয়েছে। কোনো কারণ নাই অন্য কেউ এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মূলত তারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী। যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। সাক্ষ্যে বেশ কয়েকজন আসামির নাম এসেছে যারা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করেছে, গুদাম থেকে লুট করেছে।

“কোনো কোনো আসামির নিয়ন্ত্রণ থেকেও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এমন অপরাধীদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন। সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার মত একাধিক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত, বাকিটুকু চলমান।”

এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রসিকিউটর বলেন, “সাক্ষীদের জবানবন্দিতে নতুন করে অনেকের নাম এসেছে। যাদের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম এসেছে।

“আইনে আছে তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা। কর্তৃপক্ষ কীভাবে চায় আর আমরা কীভাবে অগ্রসর হব। এর বাইরে একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন কার্যক্রম করেছে। সেই স্বাধীন কমিশনের বিষয়ে আমরা সরাসরি সম্পৃক্ত না। আর ওইটা দ্বারা আমরা প্রভাবিতও না। ওইটা এখানে বিবেচ্য হবে না। যে তথ্য এসেছে আইনানুগভাবে যেটা অগ্রসর হওয়া যায় সেইটুকু বিবেচনায় রেখেছি।”

বোরহান বলেন, “আইনানুগভাবে বিষয়টা নিয়ে আমরা ভাবছি, করণীয় কী। পক্ষান্তরে এটাও চাই না যে, এটা করতে গিয়ে মামলার বিচার প্রলম্বিত হয়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে যেন বিচারটা প্রলম্বিত বা বিঘ্নিত না হয় এবং প্রকৃত দোষীদের যেন আইনের আওতায় আনা যায় এ বিষয় নিয়ে আমরা সচেতন।”

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় তৎকালীন

বিডিআরের কিছু উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান বিদ্রোহ শুরু করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেসময় সেখানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৭৪ জন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিডিআরের নাম, লোগো ও পতাকা পরিবর্তন করে বাহিনীর নাম রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে চকবাজার থানায় দুটি মামলা করা হয়। পরে সেগুলো নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে সিআইডি ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল।

চার বছর ৮ মাস পর ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হয়।

অপরদিকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে ২০১৩ সালের ১৩ মে বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা করা হয়। ২০১৪ সালের ২৫ অগাস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন পিলখানা হত্যা মামলার কারাবন্দি আসামি বিডিআরের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আব্দুর রহিমের ছেলে আইনজীবী আব্দুল আজিজ।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম