ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: কক্সবাজার রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন আজ পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয় রামুর টমটম চালক জিহাদ হত্যার প্রধান আসামি ‘টিকটকার’ আঁখি গ্রেপ্তার ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮ ফ্লাইট বাতিল পেকুয়ায় আলোচিত মা–মেয়েকে সাজা দেওয়া সেই ইউএনও বদলি টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু সৈকতে প্রশাসনের অভিযান: সুগন্ধার পর এবার কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রামুর উখিয়ারঘোনাতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী আজ পবিত্র শবে কদর হঠাৎ বৃষ্টি পর্যটন শহরে বিএসপিএ কক্সবাজার শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন তারেক অসুস্থ রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা জনি

পক্ষপাতদুষ্ট’ হওয়ায় খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা বাতিল

কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ৪ হাজার ৪০৯ জন উপকারভোগীর তালিকা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

প্রকল্পে নির্মিত বহুতল ভবনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো ওই তালিকা।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকারি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও রক্ষাণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এ প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ২০১১ সালে করা ৪ হাজার ৪০৯ জনের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।”

২০১৭ সালের কক্সবাজার শহরের কাছে খুরুশকুল এলাকায় এই বিশেষ আশ্রায়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

২৫৩ একর জমিতে পুনর্বাসন, বাফার, শুঁটকি মহল এবং পর্যটন-এই চারটি জোন মিলিয়ে হচ্ছে এই প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসন জোনে ১১২ একর জমিতে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

সে সময় বলা হয়েছিল, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেক পরিবার যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।

১৯৯৭ সালের ১৯ মের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পায়।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসনের জন্য খুরুশকুলে নতুন এই বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে শুরু হয় ভবন নির্মাণ।

প্রকল্পের ১২৯টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ১২২টির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে করা প্রথম পর্যায়ের ২০টি ভবনের মধ্যে ১৯টির কাজ শেষে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৬০০ পরিবারকে ১০০১ টাকার নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাটের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: কক্সবাজার রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা

পক্ষপাতদুষ্ট’ হওয়ায় খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা বাতিল

আপডেট সময় : ০৭:৩২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ৪ হাজার ৪০৯ জন উপকারভোগীর তালিকা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

প্রকল্পে নির্মিত বহুতল ভবনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো ওই তালিকা।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকারি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও রক্ষাণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এ প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ২০১১ সালে করা ৪ হাজার ৪০৯ জনের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।”

২০১৭ সালের কক্সবাজার শহরের কাছে খুরুশকুল এলাকায় এই বিশেষ আশ্রায়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

২৫৩ একর জমিতে পুনর্বাসন, বাফার, শুঁটকি মহল এবং পর্যটন-এই চারটি জোন মিলিয়ে হচ্ছে এই প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসন জোনে ১১২ একর জমিতে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

সে সময় বলা হয়েছিল, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেক পরিবার যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।

১৯৯৭ সালের ১৯ মের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পায়।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসনের জন্য খুরুশকুলে নতুন এই বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে শুরু হয় ভবন নির্মাণ।

প্রকল্পের ১২৯টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ১২২টির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে করা প্রথম পর্যায়ের ২০টি ভবনের মধ্যে ১৯টির কাজ শেষে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৬০০ পরিবারকে ১০০১ টাকার নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাটের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।