ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ

“নুইন্যা”র উপস্থিতি দিচ্ছে অশনি সংকেত: মাছ শূন্য হতে পারে সমুদ্র!

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 1377

‘মাছের খনি’ খ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে এখন চলছে মাছের খরা।

গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপের আড়াই’শ জেলের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে জেলিফিশের মতো দেখতে এক অদ্ভুত প্রাণী।

বিজ্ঞানীদের ভাষায় এর নাম ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’, আর স্থানীয় জেলেরা একে ডাকেন ‘নুইন্যা’ নামে। সাগরে মাছের বদলে এই ক্ষতিকর প্রাণীর আধিক্য দেশের মৎস্য ভান্ডারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল গবেষক দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালিয়ে এই প্রাণীর বিশাল ঝাঁকের সন্ধান পেয়েছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রকৃতিতে জেলিফিশ ভক্ষণকারী সামুদ্রিক কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়াতেও এদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’ সাগরের মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, যার ফলে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও বিচরণ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সাগরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা ও গবেষণা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মাছের সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

“নুইন্যা”র উপস্থিতি দিচ্ছে অশনি সংকেত: মাছ শূন্য হতে পারে সমুদ্র!

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

‘মাছের খনি’ খ্যাত প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে এখন চলছে মাছের খরা।

গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপের আড়াই’শ জেলের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে জেলিফিশের মতো দেখতে এক অদ্ভুত প্রাণী।

বিজ্ঞানীদের ভাষায় এর নাম ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’, আর স্থানীয় জেলেরা একে ডাকেন ‘নুইন্যা’ নামে। সাগরে মাছের বদলে এই ক্ষতিকর প্রাণীর আধিক্য দেশের মৎস্য ভান্ডারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন? সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল গবেষক দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালিয়ে এই প্রাণীর বিশাল ঝাঁকের সন্ধান পেয়েছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রকৃতিতে জেলিফিশ ভক্ষণকারী সামুদ্রিক কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়াতেও এদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। এই ‘জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন’ সাগরের মাছের ডিম ও পোনা খেয়ে ফেলে, যার ফলে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও বিচরণ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি সাগরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা ও গবেষণা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মাছের সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।