ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন থেকে সরে গেছে বিএনপি : মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের রেকর্ড ছুটির শেষ দিন, সৈকতে ঢেউয়ের মতো ভিড়: বাড়তি খরচে ক্ষোভ মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্যানিক হবেন না, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নিন : জ্বালানি মন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে সহায়তার আবেদন, ঈদগাঁওয়ে শিকলবন্দি ঢাবি শিক্ষার্থী উদ্ধার সামনে কঠিন সময়, তেলের দাম বেড়ে যাবে : মির্জা ফখরুল যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প কক্সবাজারে অস্ত্র ও গুলিসহ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেহরানে বিকট বিস্ফোরণ বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা সাবরাংয়ের আনিসের পেকুয়ায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ১ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সমুদ্র সৈকতে শৃঙ্খলা প্রাধান্য

ছুটির শেষ দিন, সৈকতে ঢেউয়ের মতো ভিড়: বাড়তি খরচে ক্ষোভ

ঈদের তৃতীয় দিন ও টানা সরকারি ছুটির শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে পর্যটন নগরী যেন উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের সব পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রস্নান, কেউ ছবি তোলা, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও অনেক পর্যটকের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এমনকি সৈকতে ঘোড়ার পিঠে ছবি তুলতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেক পর্যটক। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তাহমিনা আফরিন বলেন, “ঈদ মৌসুমে কিছুটা দাম বাড়তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ভালো।”

ঢাকা থেকে আসা সান্তনু ইসলাম বলেন, “এত বড় সমুদ্র এক নজরে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটছে। তবে বিনোদনের আরও সুযোগ থাকলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।

নিরাপত্তা ও সেবার দিক থেকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন সি-সেইফ লাইফগার্ড সদস্য জয়নাল আবেদনী ভুট্টো। তিনি বলেন, “লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”

এদিকে, পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত ভাড়া ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”

ট্যাগ :

ছুটির শেষ দিন, সৈকতে ঢেউয়ের মতো ভিড়: বাড়তি খরচে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ঈদের তৃতীয় দিন ও টানা সরকারি ছুটির শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে পর্যটন নগরী যেন উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের সব পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রস্নান, কেউ ছবি তোলা, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও অনেক পর্যটকের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এমনকি সৈকতে ঘোড়ার পিঠে ছবি তুলতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেক পর্যটক। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তাহমিনা আফরিন বলেন, “ঈদ মৌসুমে কিছুটা দাম বাড়তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ভালো।”

ঢাকা থেকে আসা সান্তনু ইসলাম বলেন, “এত বড় সমুদ্র এক নজরে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটছে। তবে বিনোদনের আরও সুযোগ থাকলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।

নিরাপত্তা ও সেবার দিক থেকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন সি-সেইফ লাইফগার্ড সদস্য জয়নাল আবেদনী ভুট্টো। তিনি বলেন, “লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”

এদিকে, পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত ভাড়া ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”