ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ গ্রেফতার টেকনাফে বিজিবির অভিযান, বিপুল পরিমাণ আইস ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সৈকতের বালুচরে ছুটছে ‘মেসি’, স্বপ্নে আর্জেন্টিনার শিরোপা লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে সাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারসহ সারা দেশে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ পালন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ঈদগাঁওতে চার সন্তানের মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী কক্সবাজারে পাঁচ মাসে ৫৩ হত্যা, ৭ ডাকাতি, ১৪ ছিনতাই টেন হেডেড মাইক্রোস্কোপ ক্যান্সার নির্ণয়ে আরও ভূমিকা রাখবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আসছে ডিজিটাল আইডি, মিলবে যেসব সেবা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের টেকনাফে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ টেন স্টার সংগঠনের

কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা

এক সময় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে জায়গা ছিল না। ২০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকত ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু। একটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে রাখতে হতো। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিনরাত হিমশিম খেতে হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে।

তবে এক মাসের ব্যবধানে সেই চিত্রে এসেছে স্বস্তির পরিবর্তন। কক্সবাজার জুড়ে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতেও কমছে নতুন রোগী ভর্তি। যদিও ইতোমধ্যে এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে ১৯ শিশু, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছে ৩৭ জন শিশু। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০ থেকে ৭০ জন, সেখানে এখন চাপ অনেকটাই কমেছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ০১ জুলাই ভর্তি ছিল ৫৩ জন, ৩০ জুন ৫৩ জন, ২৯ জুন ৫০ জন, ২৮ জুন ৩৯ জন, ২৭ জুন ৪১ জন, ২৬ জুন ৩৯ জন, ২৫ জুন ৩৭ জন এবং ২৪ জুন ৪০ জন। প্রতিদিনের হিসাবেই বোঝা যাচ্ছে, হামের প্রকোপ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পঙ্কজ পাল জানান, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে ১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ১৪৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় ১৬৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২০২ জন।

তিনি জানান, এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে সন্দেহজনকভাবে মারা গেছে ১৭ শিশু এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে মারা গেছে আরও দুই শিশু। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯। এর মধ্যে রামুতে ছয়জন, কক্সবাজার সদরে দুইজন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া, চকরিয়া ও টেকনাফে একজন করে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে ১০৪ জন হাসপাতালে অবস্থান করছে। তারমধ্যে ৪১ জন সদর হাসপাতালে, টেকনাফে ১৭ জন, উখিয়ায় ১২ জন, রামুতে ৫ জন, চকরিয়ায় ১১ জন, পেকুয়ায় ১৪ জন, কুতুবদিয়ায় ০ জন এবং মহেশখালীতে ৫ জন অবস্থান করছে হাসপাতালে। তাদের মধ্যে গেলো ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ৩২ জন।

টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য:

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

জেলায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ শিশু। কিন্তু ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯০ শিশুকে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত টিকা পাওয়া শিশুদের একটি অংশ পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দা।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, “জেলায় হামের সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলেই আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও কমছে সংক্রমণ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ১১ জুন প্রকাশিত মিজেলস সিচুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ জুন পর্যন্ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮৬৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২৮৬টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১০৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮ জন শিশু। ২৬ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭২ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

শুরু হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন:

হামের জটিলতা কামতে ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ২৮ জুন থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।

এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৩৫ জন ৬-১১ মাস বয়সী এবং ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮০ জন ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু।

জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৮টি উপজেলা, একটি পৌরসভা, ৭২টি ইউনিয়ন ও ২১৬টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৮২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন ৪৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩ হাজার ১৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৭ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘এ’:

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা, চোখের মারাত্মক ক্ষতি, অপুষ্টি এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আক্রান্ত শিশুর প্রথমে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরের তিন থেকে চার দিন পর শরীরে লাল ফুসকুড়ি ওঠে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। হামের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহ, মুখে ঘা-সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। এর মধ্যে নিউমোনিয়াই শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন,

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ গ্রেফতার

কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা

আপডেট সময় : ০৫:৫২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এক সময় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে জায়গা ছিল না। ২০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকত ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু। একটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে রাখতে হতো। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিনরাত হিমশিম খেতে হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে।

তবে এক মাসের ব্যবধানে সেই চিত্রে এসেছে স্বস্তির পরিবর্তন। কক্সবাজার জুড়ে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতেও কমছে নতুন রোগী ভর্তি। যদিও ইতোমধ্যে এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে ১৯ শিশু, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছে ৩৭ জন শিশু। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০ থেকে ৭০ জন, সেখানে এখন চাপ অনেকটাই কমেছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ০১ জুলাই ভর্তি ছিল ৫৩ জন, ৩০ জুন ৫৩ জন, ২৯ জুন ৫০ জন, ২৮ জুন ৩৯ জন, ২৭ জুন ৪১ জন, ২৬ জুন ৩৯ জন, ২৫ জুন ৩৭ জন এবং ২৪ জুন ৪০ জন। প্রতিদিনের হিসাবেই বোঝা যাচ্ছে, হামের প্রকোপ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পঙ্কজ পাল জানান, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে ১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ১৪৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় ১৬৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২০২ জন।

তিনি জানান, এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে সন্দেহজনকভাবে মারা গেছে ১৭ শিশু এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে মারা গেছে আরও দুই শিশু। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯। এর মধ্যে রামুতে ছয়জন, কক্সবাজার সদরে দুইজন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া, চকরিয়া ও টেকনাফে একজন করে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে ১০৪ জন হাসপাতালে অবস্থান করছে। তারমধ্যে ৪১ জন সদর হাসপাতালে, টেকনাফে ১৭ জন, উখিয়ায় ১২ জন, রামুতে ৫ জন, চকরিয়ায় ১১ জন, পেকুয়ায় ১৪ জন, কুতুবদিয়ায় ০ জন এবং মহেশখালীতে ৫ জন অবস্থান করছে হাসপাতালে। তাদের মধ্যে গেলো ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ৩২ জন।

টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য:

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

জেলায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ শিশু। কিন্তু ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯০ শিশুকে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত টিকা পাওয়া শিশুদের একটি অংশ পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দা।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, “জেলায় হামের সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলেই আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও কমছে সংক্রমণ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ১১ জুন প্রকাশিত মিজেলস সিচুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ জুন পর্যন্ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮৬৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২৮৬টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১০৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮ জন শিশু। ২৬ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭২ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

শুরু হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন:

হামের জটিলতা কামতে ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ২৮ জুন থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।

এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৩৫ জন ৬-১১ মাস বয়সী এবং ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮০ জন ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু।

জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৮টি উপজেলা, একটি পৌরসভা, ৭২টি ইউনিয়ন ও ২১৬টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৮২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন ৪৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩ হাজার ১৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৭ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘এ’:

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা, চোখের মারাত্মক ক্ষতি, অপুষ্টি এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আক্রান্ত শিশুর প্রথমে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরের তিন থেকে চার দিন পর শরীরে লাল ফুসকুড়ি ওঠে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। হামের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহ, মুখে ঘা-সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। এর মধ্যে নিউমোনিয়াই শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন,