ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে : ইরা‌নি রাষ্ট্রদূত আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে মানবপাচার চক্রের আস্তানা থেকে ১৩ জন উদ্ধার ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আরব আমিরাত ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত গর্জনিয়ার মিন্টু ইরান নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন ট্রাম্প আরাকান আর্মির কবল থেকে মুক্ত ১৪ জেলে দেশে ফিরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবের খোলা চিঠি পাল্টাপাল্টি চাঁদা দাবির অভিযোগে মুখোমুখি যুবদল–ছাত্রদল নেতা বাংলাদেশি ১৬ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ‘মিয়ানমারের কোস্ট গার্ডের’ বিরুদ্ধে রাজনীতির ভাষা: মর্যাদা নাকি মুখোমুখি অবস্থান? কক্সবাজারের ভূমিহীনদের নিয়ে সংসদে এমপি কাজলের প্রশ্ন, জবাবে যা জানালেন ভূমিমন্ত্রী যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার জেলায় চাহিদা ১২ লাখ, সরবরাহ ৪ লাখ লিটার : কক্সবাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট শহরে ৬ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :

আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে : ইরা‌নি রাষ্ট্রদূত

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।