ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯ চকরিয়া-পেকুয়া : অভিজ্ঞের সাথে নতুনের লড়াই কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়া চার ‘আলোচিত’ নামে তোলপাড় ভোটের সমীকরণ! ​নির্বাচনী নিরাপত্তায় ঈদগাঁওতে যৌথ টহল নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান-নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

This will close in 6 seconds

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।