ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিনড্রাইভের দুই পাশে আড়াইশ অবৈধ রিসোর্ট, সৈকত দখল করেও চলছে ব্যবসা চুনতি অভয়ারণ্যে বন বিভাগের অভিযান : উদ্ধার ৬৫ শতক বনভূমি উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান: মাটিভর্তি ডাম্পারসহ চালক আটক পাহাড় ও সমতলের সব জাতিসত্তার সম্মিলিত অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি এক ট্রেনেই কক্সবাজারে যেতে পারবে ৫ জেলার মানুষ বিশেষ পাসপোর্ট পাচ্ছে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে তিন বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সোমবার কক্সবাজার আসছেন, যোগ দেবেন রামুর জাহাজভাসা উৎসবে সেন্টমার্টিনে ট্রাভেল পাস লাগবে কি, কত দিন রাতযাপন করা যাবে- জাহাজ ছাড়বে কোথা থেকে? ফানুসের রঙে আলোকিত রামু, প্রবারণা পূর্ণিমায় উৎসবমুখর বৌদ্ধ জনপদ কুতুবদিয়ার অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার আবদুল গফুর কুতুবী মারা গেছেন : সোমবার জানাজা ৯০ দশকের ছাত্রনেতা উখিয়ার কফিল উদ্দিন চৌধুরী আর নেই ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ডাকাতির মামলায় ইমাম হোসেন গ্রেফতার

একটা গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে: জামায়াত আমির

এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করার’ অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গোষ্ঠী তার পেছনে লেগেছে।

তিনি অভিযোগ করেছেন, “এখন একটি গুষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। চারদিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালিয়ে দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে-নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা! ওদের চুনোপুঁটি তো গাইল বটে, তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে।

“কিন্তু তারা পেরে ওঠেনি। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে কজ্বা করে ধরে ফেলেছে। সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। এরই মধ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। সত্য এখন উদ্ভাসিত।”

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, “এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণিমুক্তায় ভরিয়ে দেন।”

তিনি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।”

শফিকুর রহমান বলেন, “রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে, অধিকার দাও, নাহলে গুলি কর। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মত। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে ওঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪০০ শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদী লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।”

এ সময় জামায়াত আমির একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা নারীদের গায়ে, মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। তারা বলছে, হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেল, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা! এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কিভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ।”

“আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি-ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।”

শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিসের রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া।

সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট। কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোনো চাঁদাবাজি ছিনতাই রাহাজানি থাকবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোট হল আজাদী; আর না হল গোলামী। আমরা ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।”

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেরিনড্রাইভের দুই পাশে আড়াইশ অবৈধ রিসোর্ট, সৈকত দখল করেও চলছে ব্যবসা

একটা গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করার’ অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গোষ্ঠী তার পেছনে লেগেছে।

তিনি অভিযোগ করেছেন, “এখন একটি গুষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। চারদিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালিয়ে দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে-নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা! ওদের চুনোপুঁটি তো গাইল বটে, তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে।

“কিন্তু তারা পেরে ওঠেনি। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে কজ্বা করে ধরে ফেলেছে। সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। এরই মধ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। সত্য এখন উদ্ভাসিত।”

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, “এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণিমুক্তায় ভরিয়ে দেন।”

তিনি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।”

শফিকুর রহমান বলেন, “রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে, অধিকার দাও, নাহলে গুলি কর। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মত। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে ওঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪০০ শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদী লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।”

এ সময় জামায়াত আমির একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা নারীদের গায়ে, মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। তারা বলছে, হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেল, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা! এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কিভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ।”

“আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি-ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।”

শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিসের রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া।

সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট। কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোনো চাঁদাবাজি ছিনতাই রাহাজানি থাকবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোট হল আজাদী; আর না হল গোলামী। আমরা ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।”

সূত্র: বিডিনিউজ