উখিয়ার বালুখালীর কাস্টমস এলাকার সিরাজ, এক সময়ের সিএনজি চালক থেকে নাটকীয়ভাবে উত্থান, পরে শ্রমিক নেতার বেশে ইয়াবার টাকায় গড়ে তুলেছেন অপরাধ সাম্রাজ্য।
সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ সিএনজি সিরাজ, উখিয়ার বালুখালী কাস্টমস এলাকার মৃত শামসুল আলম সওদাগরের এই পুত্র এখন বালুখালী কাস্টমস ও পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে আতংকের নাম।
স্থানীয় সিএনজি সমিতির নেতা পরিচয়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি, ইয়াবা লুট সহ নানা অপকর্মে জড়িত সিরাজের নিজস্ব সক্রিয় সিন্ডিকেট রয়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিও চিত্র বলছে, নিজের বাড়িতে থাকা টর্চারসেলে সম্প্রতি এক রোহিঙ্গাকে জিম্মি করে কাছ থেকে ‘মালেয়শিয়ার দালাল’ তকমায় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন সিরাজ।
ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা যুবকের দাবি, সিরাজ তাকে সেখানে আটকে রেখে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেন।
কাস্টমস এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘ প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে সিরাজ নিজের ক্ষমতা দেখায় এখানে, আগে কিছুই ছিল না তার। মাদকের টাকায় সে এখন বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির মালিক। অল্প কয়দিনেই তার জীবনমাত্রা পালটে গেছে।’
সম্প্রতি ১৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিছু রোহিঙ্গা যুবক প্রায় ১ লাখ ইয়াবা ছিনতাই করলে সে ঘটনায় নাম আসে সিরাজের। ক্যাম্প সূত্রের দাবি, ইয়াবাগুলোর মালিক সিরাজ ছিনিয়ে নেওয়া যুবকদের খোঁজে দলবল নিয়ে ক্যাম্পে ঢুকে বেশ কবার অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে।
সিরাজের ঘর মাদকের আখড়া নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। স্থানীয় এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘ সিরাজদের মত লোকদের দৌরাত্ম্যের কারণে যুব সমাজের অবক্ষয় হচ্ছে, প্রশাসনের উচিত দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তার জন্য এলাকার তরুণরা ধ্বংসের পথে পা বাড়াচ্ছে।’
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাওয়া হলে সিরাজ বলেন, ‘ এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি পক্ষ, আমি কোন অপরাধে জড়িত নাই।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা দেশের শত্রু, এধরনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রযোজ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















