ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম: ইংরেজি সাহিত্যের এক অভিভাবকের বিদায়

বাংলা সাহিত্য জগৎ আজ নিস্তব্ধ, যেন হেমন্তের প্রভাতে এক মহীরুহ নিঃশব্দে ঝরে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, ঔপন্যাসিক, দার্শনিক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আর নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন ও সাহিত্য জগত। রেখে গেছেন এক গভীর শূন্যতা; যা সহজে পূরণ হবার নয়।

১৯৫১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বাংলা ও ইংরেজি; দুই সাহিত্য ধারারই এক সেতুবন্ধন ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যান কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে। দীর্ঘদিন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ছিলেন এক আলোকবর্তিকা; জ্ঞান, মানবতা ও নান্দনিকতার এক অনবদ্য সংমিশ্রণ।

সাহিত্যচর্চায় সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ছিলেন এক নিরন্তর অনুসন্ধানী মন। তাঁর ইংরেজি গল্প সংকলন “The Merman’s Prayer and Other Stories”, “Clay Faces, Painted Eyes” আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আধুনিক ইংরেজি গল্প চর্চাকে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে। বাংলা সাহিত্যেও তাঁর অবদান অনন্য; “গল্পগুচ্ছ”, “ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি: উত্তরাধিকার ও উত্তরাধিকারী” প্রবন্ধ গ্রন্থ গুলো তাঁর গভীর চিন্তা ও দার্শনিক দৃষ্টির সাক্ষ্য বহন করে। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন তিনি দেখেছেন মানবিকতার দৃষ্টিতে; যেখানে সাহিত্য হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের আর আশার ভাষা।

অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম ছিলেন The Daily Star পত্রিকার নিয়মিত কলাম লেখক। তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হতো এক সহৃদয় বুদ্ধিজীবীর কণ্ঠ; যিনি বিশ্বাস করতেন, “সাহিত্য কেবল নন্দনের অনুশীলন নয়, এটি সমাজের আত্মপরিচয়ের আয়না।” তিনি পাঠককে শিখিয়েছেন কীভাবে সাহিত্য জীবনের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত হয়।

তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন শিক্ষক নন, বরং এক আলোকিত পথ প্রদর্শক। ক্লাসরুমে কিংবা করিডোরে, তিনি শুধু পাঠদান করতেন না; চিন্তা করতে শেখাতেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল হারিয়েছে এক নৈতিক অভিভাবককে।

অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন; “শিক্ষা কোনো পেশা নয়, এটি এক আজীবন সাধনা।” তাঁর জীবন ছিল এক দীর্ঘ সৃজন যাত্রা; যেখানে মানুষ, ভাষা ও চিন্তা মিলেমিশে গড়ে তুলেছিল এক মানবিক মহাকাব্য।

আজ আমরা কেবল একজন মানুষকে নয়, হারিয়েছি ইংরেজি সাহিত্যের এক অভিভাবককে; যার প্রজ্ঞা, সৌম্যতা ও সৃষ্টিশীলতার ছায়া আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার আকাশে চিরকাল জ্বলজ্বল করবে।

লেখক:
শেখ জাহাঙ্গীর হাসান মানিক
অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের প্রাক্তন ছাত্র। তাঁর শিক্ষায় ও প্রেরণায় বেড়ে ওঠা এক সাহিত্য চিন্তার অনুসারী।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম: ইংরেজি সাহিত্যের এক অভিভাবকের বিদায়

আপডেট সময় : ০১:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

বাংলা সাহিত্য জগৎ আজ নিস্তব্ধ, যেন হেমন্তের প্রভাতে এক মহীরুহ নিঃশব্দে ঝরে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, ঔপন্যাসিক, দার্শনিক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আর নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন ও সাহিত্য জগত। রেখে গেছেন এক গভীর শূন্যতা; যা সহজে পূরণ হবার নয়।

১৯৫১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বাংলা ও ইংরেজি; দুই সাহিত্য ধারারই এক সেতুবন্ধন ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যান কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে। দীর্ঘদিন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ছিলেন এক আলোকবর্তিকা; জ্ঞান, মানবতা ও নান্দনিকতার এক অনবদ্য সংমিশ্রণ।

সাহিত্যচর্চায় সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ছিলেন এক নিরন্তর অনুসন্ধানী মন। তাঁর ইংরেজি গল্প সংকলন “The Merman’s Prayer and Other Stories”, “Clay Faces, Painted Eyes” আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আধুনিক ইংরেজি গল্প চর্চাকে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে। বাংলা সাহিত্যেও তাঁর অবদান অনন্য; “গল্পগুচ্ছ”, “ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি: উত্তরাধিকার ও উত্তরাধিকারী” প্রবন্ধ গ্রন্থ গুলো তাঁর গভীর চিন্তা ও দার্শনিক দৃষ্টির সাক্ষ্য বহন করে। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন তিনি দেখেছেন মানবিকতার দৃষ্টিতে; যেখানে সাহিত্য হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের আর আশার ভাষা।

অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম ছিলেন The Daily Star পত্রিকার নিয়মিত কলাম লেখক। তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হতো এক সহৃদয় বুদ্ধিজীবীর কণ্ঠ; যিনি বিশ্বাস করতেন, “সাহিত্য কেবল নন্দনের অনুশীলন নয়, এটি সমাজের আত্মপরিচয়ের আয়না।” তিনি পাঠককে শিখিয়েছেন কীভাবে সাহিত্য জীবনের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত হয়।

তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন শিক্ষক নন, বরং এক আলোকিত পথ প্রদর্শক। ক্লাসরুমে কিংবা করিডোরে, তিনি শুধু পাঠদান করতেন না; চিন্তা করতে শেখাতেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল হারিয়েছে এক নৈতিক অভিভাবককে।

অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন; “শিক্ষা কোনো পেশা নয়, এটি এক আজীবন সাধনা।” তাঁর জীবন ছিল এক দীর্ঘ সৃজন যাত্রা; যেখানে মানুষ, ভাষা ও চিন্তা মিলেমিশে গড়ে তুলেছিল এক মানবিক মহাকাব্য।

আজ আমরা কেবল একজন মানুষকে নয়, হারিয়েছি ইংরেজি সাহিত্যের এক অভিভাবককে; যার প্রজ্ঞা, সৌম্যতা ও সৃষ্টিশীলতার ছায়া আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার আকাশে চিরকাল জ্বলজ্বল করবে।

লেখক:
শেখ জাহাঙ্গীর হাসান মানিক
অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের প্রাক্তন ছাত্র। তাঁর শিক্ষায় ও প্রেরণায় বেড়ে ওঠা এক সাহিত্য চিন্তার অনুসারী।