ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বিপিসি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের বড় ধরনের হামলা কক্সবাজারে বাস-মিনিবাস শৃঙ্খলা পরিচালনা কমিটি গঠন ​সালাহউদ্দিন আহমদের ১২ তম গুম দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল নেতা ফাহিমুর রহমানের দিনব্যাপী কর্মসূচি খুরুশকুল ও রামুতে ইফতার সামগ্রি বিতরণে এমপি কাজল সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী কক্সবাজার জেলা সংসদের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত “মানবতার মুক্তির বারতা দিতে মাহে রামাদান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে” -জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারী সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের আলোচনা সভা ও  ইফতার অনুষ্ঠিত “মানবতার মুক্তির বারতা দিতে মাহে রামাদান প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে ” -জেলা আমীর আনোয়ারী কক্সবাজারে শিশুদের পাঁচ দিনের নাট্য কর্মশালা ‘অধিধ্বনি’র কুতুবদিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার ২ মামলায় কারাগারে এন. আলম

আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে আনিস আলমগীরের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।

শুনানি শেষে তিনি বলেন, “দুই মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।”

তবে এর মধ্যে গেল ৫ মার্চ ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। তার পর ৮ মার্চ দুদকের মালমাল আনিস আলমগীরের জামিন নাকচ করে দেয় আদালত।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।

অপর আসামিরা হলেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।

এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।

সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন।

এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

গত ২৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৮ জানুয়ারি রাখেন। পরে ওইদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

“আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়। ”

দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর— আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা ছিল ওই সময়।

তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দাবি, ‘স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই’ জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে তার স্বামীকে।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :

গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’

আপডেট সময় : ০১:০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে আনিস আলমগীরের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।

শুনানি শেষে তিনি বলেন, “দুই মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।”

তবে এর মধ্যে গেল ৫ মার্চ ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। তার পর ৮ মার্চ দুদকের মালমাল আনিস আলমগীরের জামিন নাকচ করে দেয় আদালত।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।

অপর আসামিরা হলেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।

এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।

সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন।

এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

গত ২৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৮ জানুয়ারি রাখেন। পরে ওইদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

“আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়। ”

দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর— আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা ছিল ওই সময়।

তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দাবি, ‘স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই’ জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে তার স্বামীকে।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম