ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী দুই বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আগামী দুই বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শুধু পরিবর্তন নয়, আমাদের রূপান্তর প্রয়োজন। আমরা আপনাদের সবাইকে ঢাকায় স্বাগতম জানাতে উদগ্রীব।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে ব্যাংককে আপনাদের সাথে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্যাংকক প্রাচ্যের এক উজ্জ্বল রত্ন, এই সম্মেলনের আয়োজন করে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রথমবারের মতো বিমসটেক অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। প্রথমেই তিনি শিনাওয়াত্রাকে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এরপর থেকে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের উষ্ণ আতিথেয়তা ও চমৎকার আয়োজনের জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ। এছাড়াও, বিমসটেক মহাসচিব, অ্যাম্বাসেডর ইন্দ্র মনি পান্ডেকে তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমরা ব্যথিত। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের জনগণের পাশে রয়েছে। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

ড. ইউনূস আরও বলেন,  ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের লাখো সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক অকাতরে আত্মত্যাগ করেছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষত যুবসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় প্রত্যক্ষ করেছে এবং নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হতে দেখেছে। অবশেষে, জনগণের অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় ২০০০ নিরীহ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, তাদের জীবন উৎসর্গ করে এ পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র নেতারা আমাকে অনুরোধ করেন, এই সংকটকালীন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করি।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করব। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে, দুর্নীতি প্রতিরোধে, এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা ছয়টি কমিশন গঠন করেছি, যা বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের সুপারিশ প্রদান করেছে। আমি নিজে একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছি, যা এই সুপারিশগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা নারীদের এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

আগামী দুই বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশ আগামী দুই বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শুধু পরিবর্তন নয়, আমাদের রূপান্তর প্রয়োজন। আমরা আপনাদের সবাইকে ঢাকায় স্বাগতম জানাতে উদগ্রীব।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে ব্যাংককে আপনাদের সাথে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্যাংকক প্রাচ্যের এক উজ্জ্বল রত্ন, এই সম্মেলনের আয়োজন করে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রথমবারের মতো বিমসটেক অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। প্রথমেই তিনি শিনাওয়াত্রাকে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এরপর থেকে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের উষ্ণ আতিথেয়তা ও চমৎকার আয়োজনের জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ। এছাড়াও, বিমসটেক মহাসচিব, অ্যাম্বাসেডর ইন্দ্র মনি পান্ডেকে তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমরা ব্যথিত। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের জনগণের পাশে রয়েছে। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

ড. ইউনূস আরও বলেন,  ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের লাখো সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক অকাতরে আত্মত্যাগ করেছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষত যুবসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় প্রত্যক্ষ করেছে এবং নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হতে দেখেছে। অবশেষে, জনগণের অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় ২০০০ নিরীহ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, তাদের জীবন উৎসর্গ করে এ পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র নেতারা আমাকে অনুরোধ করেন, এই সংকটকালীন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করি।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করব। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে, দুর্নীতি প্রতিরোধে, এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা ছয়টি কমিশন গঠন করেছি, যা বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের সুপারিশ প্রদান করেছে। আমি নিজে একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছি, যা এই সুপারিশগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা নারীদের এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।