ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান কারা উঠল শেষ বত্রিশে, বাদ পড়ল কারা

সুরক্ষা সংকটে ৫৫ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী!

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 306

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত নারী ও কন্যা শিশুরা ভয়াবহ সুরক্ষা সংকটের মধ্যে রয়েছে।

আশ্রয়শিবিরে থাকা ৫৫ শতাংশ নারী ও কন্যা শিশু প্রতিনিয়ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি ও শিক্ষাবঞ্চনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অন্তত ৯ শতাংশ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

ডাব্লিউপিএইচএফ-এর অর্থায়নে এবং ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দায়বদ্ধতা’।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আশ্রয়স্থল। এই জনগোষ্ঠীর ৫২ শতাংশেরও বেশি নারী ও কন্যা শিশু।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে কক্সবাজার জেলার প্রায় পাঁচ লাখ স্থানীয় মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবিকা, মজুরি, বন ও জলসম্পদ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সংহতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে—এটি শুধু একটি শরণার্থী সংকট নয়; বরং মানবিকতা, উন্নয়ন ও শান্তির সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ।

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিএনপিএস-এর উপপরিচালক নাসরিন বেগম।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা নয়ন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব এম এ সানোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হুমায়রা বেগমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে আশ্রয়শিবিরে সামাজিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও কন্যারা।”

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং জনসেবায় ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

গোলটেবিল বৈঠকে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সুরক্ষা সংকটে ৫৫ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী!

আপডেট সময় : ০১:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত নারী ও কন্যা শিশুরা ভয়াবহ সুরক্ষা সংকটের মধ্যে রয়েছে।

আশ্রয়শিবিরে থাকা ৫৫ শতাংশ নারী ও কন্যা শিশু প্রতিনিয়ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি ও শিক্ষাবঞ্চনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অন্তত ৯ শতাংশ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

ডাব্লিউপিএইচএফ-এর অর্থায়নে এবং ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দায়বদ্ধতা’।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আশ্রয়স্থল। এই জনগোষ্ঠীর ৫২ শতাংশেরও বেশি নারী ও কন্যা শিশু।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে কক্সবাজার জেলার প্রায় পাঁচ লাখ স্থানীয় মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবিকা, মজুরি, বন ও জলসম্পদ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সংহতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে—এটি শুধু একটি শরণার্থী সংকট নয়; বরং মানবিকতা, উন্নয়ন ও শান্তির সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ।

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিএনপিএস-এর উপপরিচালক নাসরিন বেগম।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা নয়ন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব এম এ সানোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হুমায়রা বেগমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে আশ্রয়শিবিরে সামাজিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও কন্যারা।”

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং জনসেবায় ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

গোলটেবিল বৈঠকে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।