ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়া হলো জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীকে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওশানের ফুটবল টুর্নামেন্টে পরিচালক মিশু-ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক আয়োজন পর্যটন সেবায় কর্মীদের মনোবল বাড়ায় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি থেকে ২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কানায় কানায় পূর্ণ বাঁশখালীর সাগরপাড়ের সমাবেশস্থল পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে ভরসা কেবলই ভাগ্য!

 ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে পরপর দুটি ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের বড় অংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি।

কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক ও অন্যান্য বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের জন্য বড় অর্জন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো বলেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়া হলো জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীকে

ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে ভরসা কেবলই ভাগ্য!

আপডেট সময় : ১২:২৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
 ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে পরপর দুটি ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের বড় অংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি।

কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক ও অন্যান্য বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের জন্য বড় অর্জন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো বলেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি