ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

বাঁচাতে হবে ছাত্র রাজনীতি

ছাত্র রাজনীতি একটি দেশের ভীত গড়ে দেয়। সুশিক্ষিত, মেধাবী ও প্রশিক্ষিত নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে ছাত্র রাজনীতির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জন্ম ও ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ছাত্রদের আন্দোলনের গৌরবের ফলক তার সাক্ষী। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২৪ এর আন্দোলনের মূলে রয়েছে ছাত্রদের অবদান। সমস্ত আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী সম্মুখ সারীর নেতাদের পরবর্তীতে দেশের নেতৃত্ব দিতে আমরা দেখেছি।

আশংকাজনক ভাবে লক্ষ্য করতেছি এই দেশের একটি অংশ ছাত্ররাজনীতি থেকে নিজেদের কৌশলে আড়ালে রাখতে চাচ্ছেন। তাদের আমি শ্রেণীকরণ করতে পারি না। এদের মধ্যে আছে উচ্চবিত্ত, উঁচু ব্যবসায়ী, উচ্চ শিক্ষিত, শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবার। ছাত্র রাজনীতির বিমুখতা প্রসঙ্গে সকল শ্রেণীকে বাদ দিলেও আমরা শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবারের অনাগ্রহ ও উপেক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারি না।

রাজনৈতিক নেতারা ছাত্রনেতাদের রাজনীতি করান এজেন্ডা দিয়ে। লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে ছাত্র রাজনীতি অনেকাংশে তার স্বকীয়তা হারায়। যেখানে রাজনীতির এলিট শ্রেণী অন্য পরিবারের সন্তানদের দিয়ে রাজনীতি করাতে পছন্দ করেন সেখানে উনাদের নিজেদের সন্তানেরা কেন ছাত্র রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠান? এটা কি স্বার্থপরতা নাকি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের দেশ শাসনের জন্য যোগ্য করে তুলতে নি:স্বার্থ সহযোগিতা?

আমার দেখা রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাক্ষী দিতে পারি, অধিকাংশ স্বার্থপর মানুষের মিলনমেলা এই রাজনৈতিক মঞ্চ গুলো। জীবনে কোনদিন রাজনৈতিক আলাপ করেনি, অনিয়ম, অসঙ্গতি নিয়ে আওয়াজ তুলেনি তিনি হয়ে গেছেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা। এটা আজকের সংস্কৃতি নয়। যে ব্যাক্তি বাংলাদেশের ট্রাফিক জ্যাম, দূষিত বাতাস বা ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতো সে হয়ে গেছে এমপি, প্রতিমন্ত্রী। নতুন তৈরি হওয়া এই শাসকশ্রেণীর পরিচয় দুটি হয় তারা শীর্ষ ব্যবসায়ী নতুবা শীর্ষ নেতাদের সন্তান।

এই যদি হয় ক্যাবিনেট ও পার্লামেন্ট তো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতাদের কি হলো? তারা কি হারিয়ে গেলো! হয়তো হ্যাঁ অথবা না। কেউ শিক্ষা জীবন পার করতে পারেননি, কেউ অস্থির রাজনীতির ময়দানে প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ কেউ অজস্র মামলায় জর্জরিত হয়ে নুয়ে পড়েছেন। এত বাঁধা বিপত্তির পরেও কেউ দাড়িয়ে গেলেও সে জননেতা হওয়ার অনুমতি পায়না পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই সিস্টেমের পরিবর্তন করার জন্য। উড়ে এসে জুড়ে বসাকে নিরোৎসাহিত করার জন্য। হয় দেশে ছাত্র রাজনীতি একেবারে নিষিদ্ধ করে দেয়া হউক অথবা ছাত্ররাজনীতির প্রমাণ ছাড়া কাউকেই যেন এমপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক ভাবে বিবেচিত পদের জন্যে নমিনেশন না দেয়া হউক।
যে কেউ যেকোনো পর্যায়ে রাজনীতি করতে পারে এটা নাগরিক অধিকার কিন্তু যারা ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না তাদের যেন দলীয় ভাবে জনপ্রতিনিত্বের নমিনেশন না দেওয়া হয়। এতে করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শ্রেণী করণ করা হয় অনৈতিক উদ্দেশ্যে।

এটা রাষ্ট্রের অন্তর্গত কিন্তু দলীয় ভ্যন্তরীণ সমস্যা। চাইলেও এ সমস্যার সমাধান রাষ্ট্র করতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

মুহাম্মদ ফায়েজ
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

বাঁচাতে হবে ছাত্র রাজনীতি

আপডেট সময় : ১০:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ছাত্র রাজনীতি একটি দেশের ভীত গড়ে দেয়। সুশিক্ষিত, মেধাবী ও প্রশিক্ষিত নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে ছাত্র রাজনীতির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জন্ম ও ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ছাত্রদের আন্দোলনের গৌরবের ফলক তার সাক্ষী। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২৪ এর আন্দোলনের মূলে রয়েছে ছাত্রদের অবদান। সমস্ত আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী সম্মুখ সারীর নেতাদের পরবর্তীতে দেশের নেতৃত্ব দিতে আমরা দেখেছি।

আশংকাজনক ভাবে লক্ষ্য করতেছি এই দেশের একটি অংশ ছাত্ররাজনীতি থেকে নিজেদের কৌশলে আড়ালে রাখতে চাচ্ছেন। তাদের আমি শ্রেণীকরণ করতে পারি না। এদের মধ্যে আছে উচ্চবিত্ত, উঁচু ব্যবসায়ী, উচ্চ শিক্ষিত, শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবার। ছাত্র রাজনীতির বিমুখতা প্রসঙ্গে সকল শ্রেণীকে বাদ দিলেও আমরা শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবারের অনাগ্রহ ও উপেক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারি না।

রাজনৈতিক নেতারা ছাত্রনেতাদের রাজনীতি করান এজেন্ডা দিয়ে। লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে ছাত্র রাজনীতি অনেকাংশে তার স্বকীয়তা হারায়। যেখানে রাজনীতির এলিট শ্রেণী অন্য পরিবারের সন্তানদের দিয়ে রাজনীতি করাতে পছন্দ করেন সেখানে উনাদের নিজেদের সন্তানেরা কেন ছাত্র রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠান? এটা কি স্বার্থপরতা নাকি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের দেশ শাসনের জন্য যোগ্য করে তুলতে নি:স্বার্থ সহযোগিতা?

আমার দেখা রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাক্ষী দিতে পারি, অধিকাংশ স্বার্থপর মানুষের মিলনমেলা এই রাজনৈতিক মঞ্চ গুলো। জীবনে কোনদিন রাজনৈতিক আলাপ করেনি, অনিয়ম, অসঙ্গতি নিয়ে আওয়াজ তুলেনি তিনি হয়ে গেছেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা। এটা আজকের সংস্কৃতি নয়। যে ব্যাক্তি বাংলাদেশের ট্রাফিক জ্যাম, দূষিত বাতাস বা ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতো সে হয়ে গেছে এমপি, প্রতিমন্ত্রী। নতুন তৈরি হওয়া এই শাসকশ্রেণীর পরিচয় দুটি হয় তারা শীর্ষ ব্যবসায়ী নতুবা শীর্ষ নেতাদের সন্তান।

এই যদি হয় ক্যাবিনেট ও পার্লামেন্ট তো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতাদের কি হলো? তারা কি হারিয়ে গেলো! হয়তো হ্যাঁ অথবা না। কেউ শিক্ষা জীবন পার করতে পারেননি, কেউ অস্থির রাজনীতির ময়দানে প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ কেউ অজস্র মামলায় জর্জরিত হয়ে নুয়ে পড়েছেন। এত বাঁধা বিপত্তির পরেও কেউ দাড়িয়ে গেলেও সে জননেতা হওয়ার অনুমতি পায়না পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই সিস্টেমের পরিবর্তন করার জন্য। উড়ে এসে জুড়ে বসাকে নিরোৎসাহিত করার জন্য। হয় দেশে ছাত্র রাজনীতি একেবারে নিষিদ্ধ করে দেয়া হউক অথবা ছাত্ররাজনীতির প্রমাণ ছাড়া কাউকেই যেন এমপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক ভাবে বিবেচিত পদের জন্যে নমিনেশন না দেয়া হউক।
যে কেউ যেকোনো পর্যায়ে রাজনীতি করতে পারে এটা নাগরিক অধিকার কিন্তু যারা ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না তাদের যেন দলীয় ভাবে জনপ্রতিনিত্বের নমিনেশন না দেওয়া হয়। এতে করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শ্রেণী করণ করা হয় অনৈতিক উদ্দেশ্যে।

এটা রাষ্ট্রের অন্তর্গত কিন্তু দলীয় ভ্যন্তরীণ সমস্যা। চাইলেও এ সমস্যার সমাধান রাষ্ট্র করতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

মুহাম্মদ ফায়েজ
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।