ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার গঠনের মাস পূর্তি: বিএনপির ইশতেহার থেকে বাস্তব যাত্রা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা গেল আফগানিস্তানের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলা, নিহত ৪০০ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: কক্সবাজার রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন আজ পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয় রামুর টমটম চালক জিহাদ হত্যার প্রধান আসামি ‘টিকটকার’ আঁখি গ্রেপ্তার ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮ ফ্লাইট বাতিল পেকুয়ায় আলোচিত মা–মেয়েকে সাজা দেওয়া সেই ইউএনও বদলি টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু সৈকতে প্রশাসনের অভিযান: সুগন্ধার পর এবার কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রামুর উখিয়ারঘোনাতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

ট্যাগ :

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।