ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট   সংকটের চাপে কক্সবাজারের মানুষ ও রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার লড়াই মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত দুবাইতে চুরি করা টাকার ভাগ নিয়ে জেলে গেলেন রশিদ নগরের চেয়ারম্যান শাহ আলম চকরিয়া ডুলাহাজারা ক্রিড়া সংসদ নির্বাচনে ফজলুর কাদের সভাপতি নির্বাচিত পটিয়ার লুণ্ঠিত চিনি উদ্ধার হলো চকরিয়ার রাসেলের দোকান থেকে – রাসেল ছাত্রদল নাকি শিবির এ নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেকুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠকে জেলা আমীর আনোয়ারী- জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ পরিবারকে এমপি আলমগীর ফরিদের নগদ অর্থ সহায়তা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা চান জাবের আহমদ গং কক্সবাজারে স্বস্তি খুঁজে পায় মিমের মন অচিরেই ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনের আইন তুলে নেয়া হবে : এমপি কাজল গেলো ২৪ ঘন্টায় সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে থাকতে দিলে ব্যবস্থা- সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না পেকুয়ায় লবণাক্ত পানিতে ক্ষতির শঙ্কায় হাজারো কৃষকের ফসল

পেকুয়ায় বন্যার্তদের পাশে চিকিৎসক, ১,২০০ রোগীকে চিকিৎসা ও ৫০ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. মং টিং ঞো। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।

দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি অ্যান্ড অবস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স এবং ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট  

পেকুয়ায় বন্যার্তদের পাশে চিকিৎসক, ১,২০০ রোগীকে চিকিৎসা ও ৫০ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. মং টিং ঞো। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।

দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি অ্যান্ড অবস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স এবং ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।