ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান বাড়লো তেলের দাম: ডিজেল ১১৫, পেট্রোল ১৩৫ ও অকটেন ১৪০ টাকা টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া: চলছে মানবপাচার ও অপহরণ উখিয়ায় গলায় ফাঁস লাগানো সেই কিশোরের মৃত্যু জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগামীর সময়ের কক্সবাজার প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক ইমরান হোসাইন নিজের অস্ত্রের গু’লিতে পুলিশ সদস্য নি’হ’ত কচ্ছপিয়ায় কৃষি কর্মকর্তা জহিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষক সমাবেশ ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান মানবতার দায়: বৈশ্বিক সহায়তা ও আইনগত পদক্ষেপ এখন জরুরি শুরু হলো হজযাত্রা, প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি জেদ্দায়

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই প্রেগন্যান্সির যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

একজন নারীর জীবনে ঋতুস্রাব এবং গর্ভাবস্থা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনা যা যথাক্রমে তার প্রজননকাল এবং গর্ভের মধ্যে ভ্রূণের বিকাশের সূচনা করে। যদিও এই দুটি প্রক্রিয়া আলাদা, তারা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) লক্ষণ দেখা দিতে পারে যা গর্ভাবস্থার লক্ষণের মতো হতে পারে। এই লক্ষণগুলো অনেক নারীর মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) কী?

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) বলতে শারীরিক এবং মানসিক কিছু লক্ষণকে বোঝায় যা অনেক নারী তার পিরিয়ডের আগের দিন বা সপ্তাহে অনুভব করে। এগুলো সাধারণত মাসিক চক্রের সময় হরমোনের মাত্রার ওঠানামার কারণে ঘটে।

স্ট্যাটপার্লস পাবলিশিং অনুসারে, ৯০% এরও বেশি নারীর ক্ষেত্রে কিছু প্রাক-মেনস্ট্রুয়াল লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা এবং মেজাজ খারাপ হওয়া। বিশ্বব্যাপী প্রজনন বয়সের প্রায় ৪৭.৮% নারীর পিএমএস হয়, যার মধ্যে প্রায় ২০% গুরুতর লক্ষণ অনুভব করে যা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, আবার অন্যদের হালকা থেকে মাঝারি লক্ষণ থাকে।

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থা উভয়ই হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও পিএমএস মাসিক চক্রের সময় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের চক্রাকার উত্থান-পতনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রায় আরও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

ডিম্বস্ফোটনের পরে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা সম্ভাব্য গর্ভাবস্থার জন্য জরায়ুর আস্তরণকে প্রস্তুত করে। যদি নিষেক না হয়, তাহলে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের উভয় স্তরই হ্রাস পায়, যা জরায়ুর আস্তরণের ক্ষয় ঘটায়, যার ফলে মাসিক হয়।

 

উভয় প্রক্রিয়াই কিছু অনুরূপ লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্তনের কোমলতা

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন সাধারণ। লক্ষণের মধ্যে রয়েছে স্তন ফুলে যাওয়া, কোমলতা এবং সংবেদনশীলতা, পেট ভারী এবং পূর্ণ বোধ করা। তবে গর্ভাবস্থায় এই পরিবর্তনগুলো আরও লক্ষণীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, পিরিয়ডের সময় বা শেষ হওয়ার ঠিক পরেই পিএমএস-সম্পর্কিত স্তনের পরিবর্তন কমে যায়।

পেটফাঁপা

পেটফাঁপা একটি সাধারণ লক্ষণ যা পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে উভয় সময়ই ঘটতে পারে। এর কারণ হরমোনের মাত্রার ওঠানামা, বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন, যা পানি ধরে রাখা এবং হজমের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই পেটফাঁপা থাকতে পারে, তবে পিএমএসের তুলনায় গর্ভাবস্থায় এটি বেশি স্থায়ী হয়।

খিঁচুনি

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থা উভয়ই পেটে হালকা খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই খিঁচুনি পিএমএসের তুলনায় গর্ভাবস্থায় হালকা হতে পারে। পিএমএস সাধারণত পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে হয়, অন্যদিকে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে খিঁচুনি পিরিয়ডের সময় বা তার সামান্য আগে অনুভূত হতে পারে, যা ইমপ্লান্টেশনের সাথে মিলে যায়।

ক্লান্তি

ক্লান্ত বোধ করাও পিএমএস বা গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে। পিএমএস মাসিকের কয়েক দিন আগে হলেও, গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্লান্তি গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে দেখা দিতে পারে।

মেজাজের পরিবর্তন

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার সময় হরমোনের মাত্রার ওঠানামায় মেজাজের পরিবর্তনও হতে পারে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তন সরাসরি মস্তিষ্কের রসায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বিরক্তি, বিষণ্ণতা এবং মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তনের মতো মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

গর্ভবতী কিনা তা কীভাবে নিশ্চিত হবেন

উপরে উল্লিখিত লক্ষণ ছাড়াও, গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে পারে এমন অন্যান্য লক্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. বমি বমি ভাব

২. প্রস্রাব বৃদ্ধি

৩. পিরিয়ড মিস হয়ে যাওয়া

তবে বাড়িতে অথবা ক্লিনিক/হাসপাতালে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা ভালো। যদি আপনার তবুও সন্দেহ এবং উদ্বেগ থাকে, তাহলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই প্রেগন্যান্সির যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

আপডেট সময় : ০২:০৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

একজন নারীর জীবনে ঋতুস্রাব এবং গর্ভাবস্থা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনা যা যথাক্রমে তার প্রজননকাল এবং গর্ভের মধ্যে ভ্রূণের বিকাশের সূচনা করে। যদিও এই দুটি প্রক্রিয়া আলাদা, তারা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) লক্ষণ দেখা দিতে পারে যা গর্ভাবস্থার লক্ষণের মতো হতে পারে। এই লক্ষণগুলো অনেক নারীর মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) কী?

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) বলতে শারীরিক এবং মানসিক কিছু লক্ষণকে বোঝায় যা অনেক নারী তার পিরিয়ডের আগের দিন বা সপ্তাহে অনুভব করে। এগুলো সাধারণত মাসিক চক্রের সময় হরমোনের মাত্রার ওঠানামার কারণে ঘটে।

স্ট্যাটপার্লস পাবলিশিং অনুসারে, ৯০% এরও বেশি নারীর ক্ষেত্রে কিছু প্রাক-মেনস্ট্রুয়াল লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা এবং মেজাজ খারাপ হওয়া। বিশ্বব্যাপী প্রজনন বয়সের প্রায় ৪৭.৮% নারীর পিএমএস হয়, যার মধ্যে প্রায় ২০% গুরুতর লক্ষণ অনুভব করে যা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, আবার অন্যদের হালকা থেকে মাঝারি লক্ষণ থাকে।

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থা উভয়ই হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও পিএমএস মাসিক চক্রের সময় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের চক্রাকার উত্থান-পতনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রায় আরও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

ডিম্বস্ফোটনের পরে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা সম্ভাব্য গর্ভাবস্থার জন্য জরায়ুর আস্তরণকে প্রস্তুত করে। যদি নিষেক না হয়, তাহলে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের উভয় স্তরই হ্রাস পায়, যা জরায়ুর আস্তরণের ক্ষয় ঘটায়, যার ফলে মাসিক হয়।

 

উভয় প্রক্রিয়াই কিছু অনুরূপ লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্তনের কোমলতা

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন সাধারণ। লক্ষণের মধ্যে রয়েছে স্তন ফুলে যাওয়া, কোমলতা এবং সংবেদনশীলতা, পেট ভারী এবং পূর্ণ বোধ করা। তবে গর্ভাবস্থায় এই পরিবর্তনগুলো আরও লক্ষণীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, পিরিয়ডের সময় বা শেষ হওয়ার ঠিক পরেই পিএমএস-সম্পর্কিত স্তনের পরিবর্তন কমে যায়।

পেটফাঁপা

পেটফাঁপা একটি সাধারণ লক্ষণ যা পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে উভয় সময়ই ঘটতে পারে। এর কারণ হরমোনের মাত্রার ওঠানামা, বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন, যা পানি ধরে রাখা এবং হজমের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই পেটফাঁপা থাকতে পারে, তবে পিএমএসের তুলনায় গর্ভাবস্থায় এটি বেশি স্থায়ী হয়।

খিঁচুনি

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থা উভয়ই পেটে হালকা খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই খিঁচুনি পিএমএসের তুলনায় গর্ভাবস্থায় হালকা হতে পারে। পিএমএস সাধারণত পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে হয়, অন্যদিকে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে খিঁচুনি পিরিয়ডের সময় বা তার সামান্য আগে অনুভূত হতে পারে, যা ইমপ্লান্টেশনের সাথে মিলে যায়।

ক্লান্তি

ক্লান্ত বোধ করাও পিএমএস বা গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে। পিএমএস মাসিকের কয়েক দিন আগে হলেও, গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্লান্তি গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে দেখা দিতে পারে।

মেজাজের পরিবর্তন

পিএমএস এবং গর্ভাবস্থার সময় হরমোনের মাত্রার ওঠানামায় মেজাজের পরিবর্তনও হতে পারে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তন সরাসরি মস্তিষ্কের রসায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বিরক্তি, বিষণ্ণতা এবং মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তনের মতো মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

গর্ভবতী কিনা তা কীভাবে নিশ্চিত হবেন

উপরে উল্লিখিত লক্ষণ ছাড়াও, গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে পারে এমন অন্যান্য লক্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. বমি বমি ভাব

২. প্রস্রাব বৃদ্ধি

৩. পিরিয়ড মিস হয়ে যাওয়া

তবে বাড়িতে অথবা ক্লিনিক/হাসপাতালে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা ভালো। যদি আপনার তবুও সন্দেহ এবং উদ্বেগ থাকে, তাহলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।