ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী
বিশ্ব ক্যানসার দিবস আজ

দেশে ক্যানসার চিকিৎসা এখনও অপ্রতুল

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 362

দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তবে এই রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল এবং একই সঙ্গে ব্যয়বহুল। তাছাড়া দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা নেওয়ার কারণে রোগীদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার বাইরে থাকছেন। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যানসার দিবস। প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য মতে, ২০২৪ সালে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৩৪০ জন, এর মধ্যে মারা গেছেন ৫৭৪ জন।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর এ সংখ্যা মোট রোগীর অর্ধেকেরও কম। মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২০ গুণ কম। কারণ ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। এরা এখনও কবিরাজের কাছে যায়। আরেকটি অংশ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। বাকিরা কোনও ধরণের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অনন্যতায় ঐকতান’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩ হাজার ৮৫২ জন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১২ হাজার ৫৩ জন। ২০২৩ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ১৭১ জন, জরুরি বিভাগে সেবা পেয়েছেন ১০ হাজার ৪১৮ জন। ভর্তি রোগী ছিল ১৬ হাজার ৫৬ জন। এদের মধ্যে মারা যায় ৪৯০ জন।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা বিশ্বমানের সেবা থেকে বঞ্চিত। ১০ শতাংশ মানুষ উন্নত সেবা পায়। বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে এদের সংখ্যা সব মিলিয়ে বছরে পঞ্চাশ হাজারের মতো। যারা একাধিকবার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাচ্ছে।

দেশের এক উপজেলার দুই লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ ক্যানসার আক্রান্ত। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির সংমিশ্রণ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরে যারা কোনও চিকিৎসা না নিয়েই মারা গেছেন।

ক্যানসারের সঠিক পরিস্থিতি জানতে বর্তমানে দেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর জেলায় পাইলটিং প্রোগ্রাম চলছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের করা এ রেজিস্ট্রি তথ্য বলছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যানসারে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্তন, মুখ, পাকস্থলী, শ্বাসনালী ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেশি। ফুসফুস, শ্বাসনালী ও পাকস্থলীর ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে বেশি। নতুন করে বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৫৩ জন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, দেশে বছরে চারশ থেকে সাড়ে চারশ অ্যান্টি–ক্যানসার ওষুধ তৈরি হয়। এর সমপরিমাণ ওষুধ আশেপাশের দেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো বেশিভাগেই ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করে না। এজন্য আপনারা জানেন ইতোমধ্যে ক্যানসারের ওষুধের ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে দশ ভাগ ওষুধের দাম কমবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্যানসারের বিষয়ে সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট আট বিভাগে হাসপাতাল তৈরিতে একটা বড় গ্যাপ ছিল সাত মাস যাবৎ। আমরা এ সপ্তাহে প্রজেক্ট ডিরেক্টরদের অ্যাপয়েন্টম্যান্ট দিয়ে দেবো। এসব হাসপাতাল কোনটা ৪০ শতাংশ, কোনটা আরও বেশি স্ট্রাকচার গড়ে উঠেছে। আমরা এবছর আটটা না হলে অন্তত চারটা হাসপাতাল চালু করতে পারবো। এসব হাসপাতালে ক্যানসার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপির আধুনিক সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশে কম খরচে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় একটি প্রতিষ্ঠানের উপর, সেটি হলো জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। তবে যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় সেটিও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। যার ফলে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মূল্যে চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষায়িত এই ক্যানসার হাসপাতালে দেশের নানা প্রান্ত থেকে রোগীরা আসেন রেডিওথেরাপির জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই হাসপাতালে স্থাপিত চারটি মেশিন নষ্ট রয়েছে। বাকি দুই মেশিন দিয়ে এর আগে অপ্রতুল হলেও প্রতিদিন প্রায় ২০০ এর কিছু বেশি রোগীকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। সেটিও গত ডিসেম্বরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফরিদপুরের মিজান জানান, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে রেডিওথেরাপি নেওয়া যায়। এজন্য এতদূর থেকে আসছি। কিন্তু এসে দেখি মেশিন নষ্ট। এখন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানো ছড়া বিকল্প নাই। দরকার পড়লে এখন ঘরবাড়ি বিক্রি করে দিতে হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, মেশিনগুলো ঠিক করার জন্য যোগাযোগ হয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তারা দ্রুতই এগুলো মেরামত করে দেবে বলে জানিয়েছে আমাদের। সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য

বিশ্ব ক্যানসার দিবস আজ

দেশে ক্যানসার চিকিৎসা এখনও অপ্রতুল

আপডেট সময় : ০৭:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তবে এই রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল এবং একই সঙ্গে ব্যয়বহুল। তাছাড়া দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা নেওয়ার কারণে রোগীদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার বাইরে থাকছেন। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যানসার দিবস। প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য মতে, ২০২৪ সালে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৩৪০ জন, এর মধ্যে মারা গেছেন ৫৭৪ জন।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর এ সংখ্যা মোট রোগীর অর্ধেকেরও কম। মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২০ গুণ কম। কারণ ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। এরা এখনও কবিরাজের কাছে যায়। আরেকটি অংশ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। বাকিরা কোনও ধরণের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অনন্যতায় ঐকতান’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩ হাজার ৮৫২ জন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১২ হাজার ৫৩ জন। ২০২৩ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ১৭১ জন, জরুরি বিভাগে সেবা পেয়েছেন ১০ হাজার ৪১৮ জন। ভর্তি রোগী ছিল ১৬ হাজার ৫৬ জন। এদের মধ্যে মারা যায় ৪৯০ জন।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা বিশ্বমানের সেবা থেকে বঞ্চিত। ১০ শতাংশ মানুষ উন্নত সেবা পায়। বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে এদের সংখ্যা সব মিলিয়ে বছরে পঞ্চাশ হাজারের মতো। যারা একাধিকবার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাচ্ছে।

দেশের এক উপজেলার দুই লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ ক্যানসার আক্রান্ত। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির সংমিশ্রণ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরে যারা কোনও চিকিৎসা না নিয়েই মারা গেছেন।

ক্যানসারের সঠিক পরিস্থিতি জানতে বর্তমানে দেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর জেলায় পাইলটিং প্রোগ্রাম চলছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের করা এ রেজিস্ট্রি তথ্য বলছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যানসারে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্তন, মুখ, পাকস্থলী, শ্বাসনালী ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেশি। ফুসফুস, শ্বাসনালী ও পাকস্থলীর ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে বেশি। নতুন করে বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৫৩ জন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, দেশে বছরে চারশ থেকে সাড়ে চারশ অ্যান্টি–ক্যানসার ওষুধ তৈরি হয়। এর সমপরিমাণ ওষুধ আশেপাশের দেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো বেশিভাগেই ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করে না। এজন্য আপনারা জানেন ইতোমধ্যে ক্যানসারের ওষুধের ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে দশ ভাগ ওষুধের দাম কমবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্যানসারের বিষয়ে সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট আট বিভাগে হাসপাতাল তৈরিতে একটা বড় গ্যাপ ছিল সাত মাস যাবৎ। আমরা এ সপ্তাহে প্রজেক্ট ডিরেক্টরদের অ্যাপয়েন্টম্যান্ট দিয়ে দেবো। এসব হাসপাতাল কোনটা ৪০ শতাংশ, কোনটা আরও বেশি স্ট্রাকচার গড়ে উঠেছে। আমরা এবছর আটটা না হলে অন্তত চারটা হাসপাতাল চালু করতে পারবো। এসব হাসপাতালে ক্যানসার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপির আধুনিক সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশে কম খরচে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় একটি প্রতিষ্ঠানের উপর, সেটি হলো জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। তবে যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় সেটিও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। যার ফলে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মূল্যে চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষায়িত এই ক্যানসার হাসপাতালে দেশের নানা প্রান্ত থেকে রোগীরা আসেন রেডিওথেরাপির জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই হাসপাতালে স্থাপিত চারটি মেশিন নষ্ট রয়েছে। বাকি দুই মেশিন দিয়ে এর আগে অপ্রতুল হলেও প্রতিদিন প্রায় ২০০ এর কিছু বেশি রোগীকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। সেটিও গত ডিসেম্বরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফরিদপুরের মিজান জানান, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে রেডিওথেরাপি নেওয়া যায়। এজন্য এতদূর থেকে আসছি। কিন্তু এসে দেখি মেশিন নষ্ট। এখন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানো ছড়া বিকল্প নাই। দরকার পড়লে এখন ঘরবাড়ি বিক্রি করে দিতে হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, মেশিনগুলো ঠিক করার জন্য যোগাযোগ হয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তারা দ্রুতই এগুলো মেরামত করে দেবে বলে জানিয়েছে আমাদের। সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন