ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ৫০ শিশু! ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উখিয়ায় শ্মশানের ভাঙচুর করা দেয়াল পুন:র্নির্মাণ শুরু সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন দখলদারদের উচ্ছেদে নামছে নৌবাহিনী : পরিবেশবাদীদের স্বস্তি জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ বৈঠকে আমীর -“তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে” কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চেইন্দায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী নিহত বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ২৫ জন, ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজারে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি চকরিয়ায় ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৩ জন আটক শহরে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে পর্যটকের মৃত্যু ৭০ বছর পর আসাম থেকে নৌপথে পণ্য এলো বাংলাদেশে আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা
টেকনাফে বিজিবি ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ

বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় ৭ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে রাত ১০ টার দিকে।

সোমবার (৯জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা মৌলভীবাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আটকের পর জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নিতে বিক্ষোভ করলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে বিজিবি’র। এতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে স্থানীয়রা। এর বিপরীতে গুলি ছুঁড়ে বিজিবি।

এতে ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা আহত ৭ জনের স্বজনরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা আহতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ০২ নং ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার পুত্র রফিক আলম(২৪), ০১ নং ওয়ার্ডের নুরুল আলমের পুত্র মফিজ আলম(২৭), একই ওয়ার্ডের মৃত সৈয়দ আহমদের পুত্র আজিজুর রহমান(৫১), নূর মোহাম্মদের পুত্র নূর মোস্তাফা(১৮), আব্দুল্লাহর পুত্র রায়হান(১৮) এবং মোঃ আলমের পুত্র ফয়সাল(১৪)।

তবে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “গত ২৮ মে টেকনাফের হ্নীলা বিওপি’র টহলদল একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ব্যক্তি বিজিবির অভিযানে বাধা প্রদান করে এবং অবৈধ জনতা জমায়েত করে দেশীয় অস্ত্রসহ বিজিবি’র ওপর হামলা চালায়।

এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। ওই মামলা নম্বর- ৬৮/৩৬১।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এরই প্রেক্ষিতে সোমবার  বিকাল ৪টার পর বিজিবির একটি টহলদল জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ এলাকা হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্যংখালী থেকে আটক করে। জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা জড়ো হয়ে রাস্তা ব্লক করে। পরে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের সাথে বা জাহাঙ্গীরের ‘কথিত অনুসারীদের সাথে’ সংঘর্ষ বাঁধার কথা উল্লেখ নেই।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর ও কয়েকজন জেলের সাথে বিজিবির বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয়দের দাবি জাহাঙ্গীর একজন জেলে। তিনি কোন ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত নয়।

টেকনাফ মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোসা বলেন, জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে। সে নিরীহ একজন জেলে। তাকে আটক করাই আমরা প্রতিবাদ করি। এতে আমাদের ওপর গুলি চলানো হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, বিজিবি আমাদের ওপর অন্যায় ভাবেই গুলি চালিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে বসে সমাধান করতে পারতো, কিন্তু উল্টো আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, এক জেলেকে আটক নিয়ে স্থানীয় ও বিজিবির সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ৭জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ট্যাগ :

সেন্টমার্টিনে ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ৫০ শিশু!

টেকনাফে বিজিবি ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ

বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ

আপডেট সময় : ১২:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় ৭ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে রাত ১০ টার দিকে।

সোমবার (৯জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা মৌলভীবাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আটকের পর জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নিতে বিক্ষোভ করলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে বিজিবি’র। এতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে স্থানীয়রা। এর বিপরীতে গুলি ছুঁড়ে বিজিবি।

এতে ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা আহত ৭ জনের স্বজনরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা আহতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ০২ নং ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার পুত্র রফিক আলম(২৪), ০১ নং ওয়ার্ডের নুরুল আলমের পুত্র মফিজ আলম(২৭), একই ওয়ার্ডের মৃত সৈয়দ আহমদের পুত্র আজিজুর রহমান(৫১), নূর মোহাম্মদের পুত্র নূর মোস্তাফা(১৮), আব্দুল্লাহর পুত্র রায়হান(১৮) এবং মোঃ আলমের পুত্র ফয়সাল(১৪)।

তবে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “গত ২৮ মে টেকনাফের হ্নীলা বিওপি’র টহলদল একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ব্যক্তি বিজিবির অভিযানে বাধা প্রদান করে এবং অবৈধ জনতা জমায়েত করে দেশীয় অস্ত্রসহ বিজিবি’র ওপর হামলা চালায়।

এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। ওই মামলা নম্বর- ৬৮/৩৬১।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এরই প্রেক্ষিতে সোমবার  বিকাল ৪টার পর বিজিবির একটি টহলদল জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ এলাকা হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্যংখালী থেকে আটক করে। জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা জড়ো হয়ে রাস্তা ব্লক করে। পরে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের সাথে বা জাহাঙ্গীরের ‘কথিত অনুসারীদের সাথে’ সংঘর্ষ বাঁধার কথা উল্লেখ নেই।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর ও কয়েকজন জেলের সাথে বিজিবির বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয়দের দাবি জাহাঙ্গীর একজন জেলে। তিনি কোন ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত নয়।

টেকনাফ মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোসা বলেন, জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে। সে নিরীহ একজন জেলে। তাকে আটক করাই আমরা প্রতিবাদ করি। এতে আমাদের ওপর গুলি চলানো হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বলেন, বিজিবি আমাদের ওপর অন্যায় ভাবেই গুলি চালিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে বসে সমাধান করতে পারতো, কিন্তু উল্টো আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, এক জেলেকে আটক নিয়ে স্থানীয় ও বিজিবির সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ৭জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।