ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন ​”ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়া টেকনাফের শিক্ষার্থী রিয়াজের মরদেহ আটকে আছে হাসপাতালে, সাহায্যের আবেদন ইনানী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে যুবক নিখোঁজ- উদ্ধার অভিযান অব্যাহত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান ফের ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি সমস্যা নিরসন করে সবাইকে ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে নিতে হবে: সেনাপ্রধান ইতিহাস গড়ে নকআউটে কেপ ভার্দে, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শাহাদাত হোসাইনের পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার 

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।