ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার নাম করে আনছিলো ইয়াবা : আটক  যুবদল নেতা, দল থেকে বহিস্কার কক্সবাজারে দুইশ কিলোমিটার ড্রাইভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ১৫ বছর পরও স্মৃতিতে অমলিন নেতা শাহ আলম সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে- এমপি কাজল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ করতে আদালতে আসছেন এমপি আমির হামজা একই পরিবারের ৪ সদস্যের আত্মহত্যা ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার নজরুল বর্ষ ঘিরে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে ৬৪ জেলায়: সংস্কৃতিমন্ত্রী দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল ‘এগিয়ে চলো ব্রাজিল’, সতীর্থদের প্রতি নেইমার বিশ্বকাপ জিততে এসেছি, ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়: ভিনিসিয়ুস প্রায় ১৪ ঘণ্টার সফর শেষে ঢাকা ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারে ব্লু ইকনোমি ও মেরিন সাইন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় ১৫-২০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছায়া সংসদ কী, কীভাবে কাজ করে

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “ছায়া সংসদ” বা “ছায়া মন্ত্রিসভা” গঠনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

ছায়া সংসদ কী?

ছায়া সংসদ মূলত বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এটি “Shadow Cabinet” নামে পরিচিত। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিরোধী দলের স্বেচ্ছায় গঠিত একটি কাঠামো।

কীভাবে কাজ করে?

ছায়া সংসদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, বাজেট, প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তারা—সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেন, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেন,দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন,গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
এভাবে এটি কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের একটি সংগঠিত পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।

রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া সংসদ গঠিত হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও নীতিনির্ভর হতে পারে। এতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাল্টা বিশ্লেষণ সামনে আসবে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিরোধী দলকে সংগঠিত ও প্রস্তুত রাখে—ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোন খাতে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তারও একটি কাঠামো তৈরি হয়।তবে সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলে এটি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কারা বলছেন ছায়া সংসদ গঠনের কথা?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ও প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও জানিয়েছেন, সরকারকে “ওয়াচডগ” হিসেবে নজরদারি করতে তাদের দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল ছায়া সংসদ গঠন করে, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর।