ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনার চেহারা দেখা যায়নি, অস্থিরতা সৃষ্টিতে বিদেশ থেকে মাঝে মধ্যে উঁকিঝুঁকি দেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ দরিয়ানগরে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় প্যারাসেইলিং মালিক ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা ‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শহীদ ইশমামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী : ছেলের ছবির সামনে মায়ের আহাজারি, মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু পেকুয়ায় ওযু করতে গিয়ে পা পিছলে মসজিদের ইমামের মৃত্যু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: ট্যুরিস্ট জীপ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান:জরিমানা ও গাড়ি জব্দ লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি, নেতাকর্মীদের ঢল নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবির অভিযান : ইয়াবা উদ্ধার নারীদের সুরক্ষায় টেকনাফে সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন অভিযোগ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৫৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আটক ২ : উদ্ধার হয়নি টাকা কথিত ছোটন সিন্ডিকেটের মাদক আনতেই কি মাইন বিস্ফোরণে পা হারালেন বালুখালীর সেই জেলে?

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিসিইউ আবারও চালু

কক্সবাজার জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ সিসিইউ বন্ধ হওয়ার ৫ দিন পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও চালু করা হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় বিশেষায়িত বিভাগটির জন্য সরকারিভাবে দুই জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সিসিইউ এর মতো বিভাগ দুই জন দ্বারা পরিচালনা সম্ভব না। এতে আলোচনা করে ৯ মাস বিনা বেতনে সেবা প্রদানকারি আরও দুইজন আবারও বিনা বেতনে সেবা প্রদানে সম্মতি প্রদান করেছেন। ফলে ৪ জন চিকিৎসককে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে চালু করা হয়েছে বিভাগটি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবাধয়ক ডাক্তার মং টিং ঞো এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, টানা ৯ মাস ৩০ চিকিৎসক সহ ১৩০ জন কর্মচারি বিনা বেতনে সেবা প্রদান করে চালু রেখেছিল এই বিভাগটি। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ মে) সিসিইউ বন্ধ ঘোষণা হয়। বিষয়টি উধ্বর্তন মহলকে লিখিতভাবে একাধিকবার অবহিত করার পর নানা প্রচেষ্টায় সোমবার রাতে ২ জন চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের ‘স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সাপোর্ট প্রকল্প (এইচজিএফপি), স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ সহায়তা প্রকল্পের (এইচজিএস) অধীনে রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়দের জন্য বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ অর্থে আন্তর্জাতিক ও দেশি বিভিন্ন এনজিও জেলাব্যাপী হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে ২০১৯ সালের শুরু থেকে। এতে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারিভাবে নিয়োগ করা জনবল ছাড়াও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন করা হয়েছিল। যার অধিনে হাসপাতালটিতে চালু করা হয়েছিল আইসিইউ, সিসিইউ, জরুরি প্রসূতি এবং শিশু সুরক্ষা সেবা কার্যক্রম। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সহ নানাভাবে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি প্রচেষ্টায় প্রকল্পের মেয়াদ ৩ মাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করে। যেখানে ৩০ জন চিকিৎসক ও ১ শত কর্মচারি ছিল। যারা গত ৯ মাস ধরে বিনা বেতনে সেবা প্রদান করে আসছিলেন এবং বিভাগ সমুহ চালু ছিল। বৃহস্পতিবার সিসিইউ বন্ধ ঘোষণা হয়।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মুলত বিশেষায়িত বিভাগ সমুহ এনজিও’র উপর নির্ভরশীল। আইসিইউ ও সিসিইউ সহ কয়েকটি বিভাগ সরকারি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের অধিনে না। গত জুন মাসে এসে এনজিও প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনমাস বাড়ানো হলেও পরে সেপ্টেম্বর এ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিনা বেতনে অনেকেই চালিয়ে গেছে প্রকল্প আসবে এই আশায়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনো প্রকল্প আটকে আছে। এর মধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। এজন্য সিসিইউ বিভাগ বৃহস্পতিবার ডাক্তার এর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার তা চালু করা সম্ভব হয়েছে। একই পরিস্থিতি এখনও চালু থাকা আইসিইউ বিভাগে। ফলে প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দেয়া জরুরি।

চিকিৎসকরা জানান, কক্সবাজার জেলার ২৫ লাখ মানুষের সঙ্গে ২০১৭ সালে যোগ হয়েছে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। আর প্রতিবছর কক্সবাজারে বেড়াতে আসে কয়েক লাখ পর্যটক। বিপুল জনগোষ্ঠীর উন্নত সেবার আধুনিক সেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে সরকারি মঞ্জুরি হওয়া ৩২৮টি পদের মধ্যে ৭৬টি শূন্য রয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগী সেবার জন্য আসে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ন্যূনতম সেবা চালু রাখতে হলে জরুরি বিভাগে অন্তত ১২ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। এ ছাড়া ২৫০ শয্যার হলেও হাসপাতালে ইন্ডোরে গড় হিসাবে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকে।

সূত্র : যুগের চিন্তা ২৪.কম

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার চেহারা দেখা যায়নি, অস্থিরতা সৃষ্টিতে বিদেশ থেকে মাঝে মধ্যে উঁকিঝুঁকি দেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিসিইউ আবারও চালু

আপডেট সময় : ০২:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

কক্সবাজার জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ সিসিইউ বন্ধ হওয়ার ৫ দিন পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও চালু করা হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় বিশেষায়িত বিভাগটির জন্য সরকারিভাবে দুই জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সিসিইউ এর মতো বিভাগ দুই জন দ্বারা পরিচালনা সম্ভব না। এতে আলোচনা করে ৯ মাস বিনা বেতনে সেবা প্রদানকারি আরও দুইজন আবারও বিনা বেতনে সেবা প্রদানে সম্মতি প্রদান করেছেন। ফলে ৪ জন চিকিৎসককে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে চালু করা হয়েছে বিভাগটি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবাধয়ক ডাক্তার মং টিং ঞো এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, টানা ৯ মাস ৩০ চিকিৎসক সহ ১৩০ জন কর্মচারি বিনা বেতনে সেবা প্রদান করে চালু রেখেছিল এই বিভাগটি। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ মে) সিসিইউ বন্ধ ঘোষণা হয়। বিষয়টি উধ্বর্তন মহলকে লিখিতভাবে একাধিকবার অবহিত করার পর নানা প্রচেষ্টায় সোমবার রাতে ২ জন চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের ‘স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সাপোর্ট প্রকল্প (এইচজিএফপি), স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ সহায়তা প্রকল্পের (এইচজিএস) অধীনে রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়দের জন্য বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ অর্থে আন্তর্জাতিক ও দেশি বিভিন্ন এনজিও জেলাব্যাপী হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে ২০১৯ সালের শুরু থেকে। এতে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারিভাবে নিয়োগ করা জনবল ছাড়াও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন করা হয়েছিল। যার অধিনে হাসপাতালটিতে চালু করা হয়েছিল আইসিইউ, সিসিইউ, জরুরি প্রসূতি এবং শিশু সুরক্ষা সেবা কার্যক্রম। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সহ নানাভাবে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি প্রচেষ্টায় প্রকল্পের মেয়াদ ৩ মাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করে। যেখানে ৩০ জন চিকিৎসক ও ১ শত কর্মচারি ছিল। যারা গত ৯ মাস ধরে বিনা বেতনে সেবা প্রদান করে আসছিলেন এবং বিভাগ সমুহ চালু ছিল। বৃহস্পতিবার সিসিইউ বন্ধ ঘোষণা হয়।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মুলত বিশেষায়িত বিভাগ সমুহ এনজিও’র উপর নির্ভরশীল। আইসিইউ ও সিসিইউ সহ কয়েকটি বিভাগ সরকারি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের অধিনে না। গত জুন মাসে এসে এনজিও প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনমাস বাড়ানো হলেও পরে সেপ্টেম্বর এ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিনা বেতনে অনেকেই চালিয়ে গেছে প্রকল্প আসবে এই আশায়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনো প্রকল্প আটকে আছে। এর মধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। এজন্য সিসিইউ বিভাগ বৃহস্পতিবার ডাক্তার এর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার তা চালু করা সম্ভব হয়েছে। একই পরিস্থিতি এখনও চালু থাকা আইসিইউ বিভাগে। ফলে প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দেয়া জরুরি।

চিকিৎসকরা জানান, কক্সবাজার জেলার ২৫ লাখ মানুষের সঙ্গে ২০১৭ সালে যোগ হয়েছে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। আর প্রতিবছর কক্সবাজারে বেড়াতে আসে কয়েক লাখ পর্যটক। বিপুল জনগোষ্ঠীর উন্নত সেবার আধুনিক সেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে সরকারি মঞ্জুরি হওয়া ৩২৮টি পদের মধ্যে ৭৬টি শূন্য রয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগী সেবার জন্য আসে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ন্যূনতম সেবা চালু রাখতে হলে জরুরি বিভাগে অন্তত ১২ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। এ ছাড়া ২৫০ শয্যার হলেও হাসপাতালে ইন্ডোরে গড় হিসাবে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকে।

সূত্র : যুগের চিন্তা ২৪.কম